ঈদ উত্সব শুধু ভোগের নয়, ত্যাগেরও

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৩, ২১:৪৮
ইসলামে ঈদের আনন্দ সর্বজনীন। বিশ্বের সব দেশের ও সব পেশার মুসলমানের সমান অধিকার আছে ঈদের আনন্দ উপভোগের। নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা সমপ্রদায়ের জন্য ঈদের আনন্দ সীমাবদ্ধ নয়। কিছু লোকের একক আধিপত্যও নাই ঈদের উত্সবে। সব মুসলমান ঈদের আনন্দ উপভোগ করে থাকেন নিজস্বভাবে। ঈদ বিশ্ব মুসলিমের জাতীয় উত্সব হলেও এতে স্থানিক সংস্কৃতি যোগ হতে বাধা নাই। তাই দেখা যায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদ উদযাপিত হয় বিভিন্ন সংস্কৃতিতে। সকালে সেমাই-পায়েস বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেয়ে বাঙালি মুসলমানরা ঈদগাহে যায়। ঈদের দিন সাধারণত বাঙালি পুরুষেরা পায়জামা-পাঞ্জাবি এবং নারীরা শাড়ি পরেন। অর্থাত্ বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয় বাঙালি সংস্কৃতিতে। একইভাবে মালয়েশিয়া, আমেরিকা, আফ্রিকা, ইউরোপ, সৌদিআরব ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুসলমানরা ঈদ উদযাপন করেন তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিতে। ঈদ উত্সবের প্রধান অনুষঙ্গ জামায়াতে নামাজ আদায়। অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক অনৈক্য, সামাজিক অবস্থানের ভিন্নতা সত্ত্বেও ঈদের দিনে সব মুসলমান একত্রিত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে জামাতে নামাজের মাধ্যমে। সমবেত কণ্ঠের ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ঈদের ময়দান। মুসলমানসহ সমগ্র বিশ্বের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিনম্র প্রার্থনা করা হয় ঈদের মোনাজাতে। প্রকৃতপক্ষে ঈদের উত্সব আল্লাহর কাছে সমবেতভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও আত্মসমর্পণের আনন্দ উত্সব। ভাতৃত্ববোধ ও জাতীয় ঐক্য ঈদের প্রধান শিক্ষা। সহমর্মিতা-সহানুভূতি জাগ্রত করা ঈদের অন্যতম উদ্দেশ্য। ধনীর পাশাপাশি দরিদ্ররাও যাতে ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারে সেজন্য ধনীদের ওপর ‘সদকাতুল ফিতর’ আদায় করা অপরিহার্য। অন্যদিকে এ ‘সদকাতুল ফিতর’ অসহায় দরিদ্র মুসলমানের জন্য প্রাপ্য। ঈদের মাঠে যাওয়ার আগেই সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। পরিবারের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যদের সদকাতুল ফিতর আদায় করার দায়িত্ব পরিবার প্রধানের। ‘সদকাতুল ফিতর’ আদায় ও গ্রহণের মাধ্যমে পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা-সহানুভূতি জাগ্রত হয়। মুসলমান পরস্পর ভাই—মহান আল্লাহর এ ঘোষণা প্রতিফলিত হয় ঈদের দিনে। ঈদ উত্সব শুধু ভোগের নয়, ত্যাগেরও। ঈদ মুসলমানদের ত্যাগের শিক্ষাও দেয়। তাই ঈদের দিনে মুসলমানরা ভোগের সঙ্গে ত্যাগের সাধনাও করে থাকেন। জাতীয় এ উত্সবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঈদের আনন্দে সম্পৃক্ত করার জন্য কমবেশি সবাই চেষ্টা করেন। ঈদ মুসলমানদের আনন্দ উত্সব হলেও সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির বাংলাদেশে এ উত্সবে অন্য ধর্মাবলম্বীরাও অংশ নিয়ে থাকেন। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের লোকেরা ঈদ উত্সবে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সমভাবে। এতে পারস্পরিক সহানুভূতি, জাতীয় ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব সুদৃঢ় হয়। ঢাকা