নিরাপদ হোক নদীপথ

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৩, ২১:৪৯
প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও, বিশেষ করে উপকূলীয় ও হাওরাঞ্চলে ডাকাতের আক্রমণে সর্বস্ব হারাচ্ছেন লঞ্চ ও ট্টলারযাত্রী, নৌ-শ্রমিক। ঢাকার উপকণ্ঠে প্রবাহিত এবং বালু পরিবহনে ব্যস্ত বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু ও মেঘনায় ডাকাতি অপেক্ষাকৃত কম হলেও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য চরমে। আবার দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশ অঞ্চলে রয়েছে জলদস্যুদের উপদ্রব। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বছরের পর বছর ধরে নদীপথগুলো অরক্ষিতই পড়ে থাকছে। সড়কপথের বিড়ম্বনা এড়াতে ও সময় বাঁচাতে আশপাশের কয়েক জেলার যাত্রীরা নদীপথ ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু ঈদের আগে বেশি ডাকাতির ঘটনা ঘটায় সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফেরে ঘরমুখো মানুষ। আসন্ন ঈদকে সামনে করে রাজধানীর তিনটি প্রধান নদীতে নৌদস্যুতা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। নৌপুলিশের তত্পরতা না থাকায় দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বুড়িগঙ্গা জোন। সন্ধ্যা এলেই রাজধানীর এ নদীতে সক্রিয় হয়ে ওঠে জলদস্যুরা। সক্রিয় হয়ে ওঠে চোরাচালানিসহ সংঘবদ্ধ অপরাধীরা। তুরাগ ও শীতলক্ষ্যার চিত্রও কমবেশি অভিন্ন। এ তিন নদীতে প্রায় প্রতিদিনই ঘটে নৌযান লুটের ঘটনা। রাজধানীতে কাঁচা তরকারি, মাছ, মৌসুমি ফল নিয়ে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রায়ই জলদস্যুতার শিকার হয়। দুই ঈদকে সামনে রেখে বৃদ্ধি পায় দুর্বৃত্তদের তত্পরতা। জলদস্যুরা ডিঙি নৌকা করে ব্যবসায়ীদের পণ্যবাহী নৌকা বা ট্রলারে ওঠে। তারপর অস্ত্রের মুখে টাকা-পয়সা লুট করে পালিয়ে যায়। কখনো কখনো ব্যবসায়ীদের ছুরিকাঘাত করে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানীর নদীগুলোতে পুলিশ টহলের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, মোহাম্মদপুর ও নারায়ণগঞ্জের সাত-আটটি সুসংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র বুড়িগঙ্গা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তত্পর । রাজধানীর প্রধান তিনটি নদীতে নিরাপত্তাহীন অবস্থা দুষ্কৃতকারীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করছে। বাড়ছে নদীকেন্দ্রিক অপরাধের ঘটনা। রাজধানীর যানজট কমাতে পণ্য পরিবহনে নৌপথ ব্যবহারের কথা বলা হয়। নৌপথে পণ্য পরিবহন অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী হলেও জলদস্যুতার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্রমেই নিরুত্সাহিত হয়ে পড়ছেন। বিশেষত ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর তিন প্রধান নদীতে জলদস্যুতা বেড়ে যায়। জলদস্যুদের কাছে অসহায় হয়ে পড়ে নৌযানচালক এবং ব্যবসায়ীরা। নদী-তীরবর্তী বিভিন্ন থানার পুলিশের সাফ বক্তব্য—লোকবল এবং উপকরণের অভাব থাকায় তাদের পক্ষে কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশি নজরদারির অভাব থাকায় রাজধানীর তিন নদীতে চোরাচালানিদের তত্পরতাও বেড়েছে। নদীবক্ষে নৌযানে নেশাদ্রব্য কেনাবেচা ও অসামাজিক কার্যকলাপ বাড়ছে ব্যাপকভাবে। আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে রাজধানীর নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। এক্ষেত্রে কোনো হেলাফেলা থাকা উচিত নয়। ঢাকাসহ সারাদেশের নৌপথে নিরাপত্তা বিধান করা ছাড়াও নদী ও সমুদ্রের মোহনায় বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলে জলদস্যুর আতঙ্কমুক্ত করা জরুরি। যদিও ইতোমধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে জলদস্যুদের বেশ কটি আস্তানা ধ্বংস ও কয়েকটি জলদস্যু গ্রুপের বেশ কিছু সদস্য হতাহত ও আটক হয়েছে। এর ফলে নদী ও সমুদ্রে নিরাপত্তা কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু সার্বক্ষণিক জোরদার নিরাপত্তা তত্পরতা বহাল না থাকার ফলে জলদস্যুরা সুযোগ বুঝে পুনরায় হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে। কোস্টগার্ডের একার পক্ষে জলদস্যুদের নির্মূল করা সম্ভব নয়। কারণ তারা জলপথে দস্যুতা চালালেও তাদের বসবাস কিন্তু সন্নিহিত এলাকায়। সে কারণে থানা পুলিশকে এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেই হবে। তাদের আস্তানার খোঁজও পুলিশের কাছে বেশি থাকে। তাই কোস্টগার্ড, পুলিশ ও নৌপুলিশের সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে জলদস্যু পাকড়াও অভিযান চালানো হলে অধিক সাফল্য পাওয়া যাবে। আমার মতে, জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি একটি নিরাপত্তা ছক আঁকা প্রয়োজন। এই নতুন ব্যবস্থায় জলপথে দস্যুতাসহ সব ধরনের অপরাধ মোকাবেলা করা যাবে। জনগণ আশা করে, সরকার এ ব্যাপারে ত্বরিত্ কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে জলপথের নিরাপত্তা বিধানে এগিয়ে আসবে। ঢাকা