শেষ সময়ে ঢাকাবাসীর স্বস্তির কেনাকাটা

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৩
শেষ সময়ের রাজধানীবাসী স্বস্তিতে ঈদের কেনাকাটা করেছেন। তবে রাজধানীর দৃশ্যপট এখন পাল্টে গেছে। ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছেড়েছে অসংখ্য মানুষ। রাজধানীর শান্ত এই রূপটির জন্যই অপেক্ষা করে থাকেন ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দারা। ঈদের ছুটির এই সময়টিতে রাজধানী ঢাকাকে দেখা যায় ভিন্ন রূপে। ঢাকাবাসীর কাছে ঈদের ছুটির সাথে ঢাকার শান্ত রূপ যেন এক বাড়তি পাওনা। রাজপথে নেই দুর্বিষহ যানজট। দুর্বিষহ যানজট ঢাকার বাসিন্দাদের বিরক্তির সবচেয়ে বড় কারণ। সেই যানজট না থাকায় অনেকেই শেষ সময়ের টুকিটাকি কেনাকাটা করতে বেড়িয়েছিলেন। রাজধানীর সব ক’টি মার্কেটে দোকানীদের অলসভাবে ক্রেতা সামলাতে দেখা যায়। ক্রেতারা দেখে-বুঝে কেনাকাটা করার সুযোগ পেয়েছেন। দোকানীরাও খুশী এবং সন্তুষ্ট হয়ে শেষ সময়ের বেচাকেনা করছেন। তরুণীরা কিনছেন, ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে নেইলপলিশ, কানের দুল ও হাতের ব্রেসলেট। অনেকে আবার পছন্দের জিনিসটি দ্বিতীয়বার কিনতে এসে না পেয়ে ফিরে গেছেন। শেষ সময়ে যারা পোশাক কিনতে বেড়িয়েছেন তারা স্বস্তিতে কেনাকাটা করলেও তারা তাদের পছন্দের পোশাকটির সাইজ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পছন্দের পোশাকটি কিনতে না পেরে অনেকে মন খারাপ করে চলে যাচ্ছেন। গত দু’দিন আগেই মৌসুমী একটি ড্রেস দেখে গিয়েছিল দেশালে। কিন্তু ভিড়ের কারণে কিনতে পারেননি। দু’দিন পরে গতকাল এসে মাকের্টে স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারলেও ড্রেসের ঠিক সাইজটি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বাধ্য হয়ে মন খারাপ করে তাকে চলে যেতে হয়েছে। দোকানীরা বলছেন, শেষ দিকের বেচাকেনা, কোনটির সাইজ আছে, কোনটির নেই। দোকানীরা বলছেন, মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও এখন যথেষ্ট ফ্যাশন সচেতন। তরুণ-যুবকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে সেমি লং পাঞ্জাবি। গরমে ঈদ হওয়ার পরেও তরুণ-যুবকরা পাঞ্জাবির মধ্যে কালো, নেভি-ব্লু, বেগুনী, মেরুন, ফিরোজা ইত্যাদি গাঢ় রঙই পছন্দ করছেন। গতকাল গাউসিয়া, চাঁদনীচক, নিউমাকের্ট, বসুন্ধরা সিটি, আজিজ সুপারমাকের্ট ও মিরপুর রোডের শপিংমলগুলো ঘুরে দেখা যায় ক্রেতাদের কেনাকাটায় ভাটা পড়েনি। রাজধানীর ফুটপাতগুলো থেকে শুরু করে মিরপুর রোডে অবস্থিত মার্কেটগুলোর মধ্যে রয়েছে আড়ং, সানরাইজ প্লাজা, রাপা প্লাজা, মেট্রো, অরচার্ড প্লাজা, প্লাজা এ আর, ক্রিসেন্ট মার্কেটসহ বুটিকশপগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, চাঁদনীচক, এলিফ্যান্ট রোডের দোকানপাট, ফার্মগেটের সব মার্কেট, ফুটপাথ, সেজান পয়েন্ট, গুলিস্তানের পুরো এলাকা, মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, খিলক্ষেতের রাজউক ট্রেড সেন্টার, উত্তরার নর্থ টাওয়ার, রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্সসহ মার্কেটগুলোতে ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। ঢাকা শহর ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় অনেকে শেষ কেনাকাটার পাশাপাশি ঘুরে বেড়িয়েছেন আত্মীয়-পরিজনদের বাসায়। কারণ রাস্তায় কোন যানজট নেই। যার কারণে স্বস্তিতে তারা ঘুরে-ফিরে বেড়িয়েছেন বেশ। বিশেষ করে ঈদের আগেই খুশির জোয়ারে ভাসতে দেখা গেছে তরুণ-তরুণীদের। মিরপুর পল্লবী থেকে রনি, মাইসা ও স্বাতী এসেছেন বসুন্ধরা সিটিতে কেনাকাটা করতে। তারা বলছেন, ‘ইশ্ ঢাকার রাস্তা যদি এমনটা সবসময় থাকতো ! ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিগন্যালে আটকে থাকতে হলো না। ১৫ মিনিটে গেলাম। আসতেও লাগলো মাত্র ১৫ মিনিট।’