জঙ্গি হামলার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ইয়েমেন ছাড়ার নির্দেশ

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৮
জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইয়েমেনে তাদের দূতাবাসে অত্যাবশ্যকীয় নয় এমন সব কর্মচারী এবং সব মার্কিন নাগরিককে ওই দেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার একটি জরুরি সতর্কতাও জারি করেছে। খবর বিবিসির। ব্রিটেনের সরকারও বলছে তারা সানা থেকে সব দূতাবাস কর্মীকে সরিয়ে নিচ্ছে। জঙ্গি হামলার সম্ভাবনায় গত সপ্তাহে বাংলাদেশসহ বেশ কয়টি দেশে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ রাখা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইয়েমেনের ব্যাপারে সর্বশেষ যে সতর্কতা জারি করেছে, তাতে সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি খুবই বেশি বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। এই হামলার ঝুঁকি আসছে আরব উপদ্বীপ থেকে এবং এর লক্ষ্যবস্তুও হয়তো সেখানে। কিন্তু ওই অঞ্চলের বাইরেও এই হামলার ঝুঁকি আছে। জে কার্নি, হোয়াইট হাউস মুখপাত্র মার্কিন নাগরিক এবং দূতাবাস কর্মীদের ইয়েমেন ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই সতর্কতা জারি করেছে তাদের ড্রোন হামলায় সেখানে চারজন সন্দেহভাজন আল কায়েদা জঙ্গি নিহত হওয়ার কয়েক ঘন্টা পর। তবে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। তিনি জানান, একারণেই তারা সতর্কতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাদের কাছে বর্তমানে যে তথ্য আছে তাতে বোঝা যাচ্ছে, আল কায়েদা এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী এই অঞ্চলে এবং এর বাইরে আরও বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছে। এখন থেকে আগস্টের শেষ নাগাদ যে কোন সময় এই হামলা চালানো হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হচ্ছে, আল কায়েদা নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরি এবং ইয়েমেনে আল কায়েদার প্রধান নাসের আল ওয়াহাইসির মধ্যে কথোপকথনে আড়ি পেতেছিল মার্কিন গোয়েন্দারা। সেখান থেকেই এই সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের তথ্য পেয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর এটিই এযাবত্কালের সবচেয়ে বড় আকারের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা। ইয়েমেনে গোয়েন্দা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, বড় এক সন্ত্রাসী হামলা চালানোর লক্ষ্যে কয়েক ডজন আল কায়েদা সন্ত্রাসী গত কয়েকদিন সানায় ঢুকেছে বলে তাদের কাছে খবর আছে। সানায় নিরাপত্তার প্রচণ্ড কড়াকড়ি করা হয়েছে, সেখানে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ, বিভিন্ন দূতাবাস এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে সাঁজোয়া যানসহ ব্যাপক সামরিক প্রহরা বসানো হয়েছে।