বগুড়ায় ক্লিনিক ভাংচুর

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৯
বগুড়ায় ভুল চিকিত্সায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিকে ব্যাপক ভাংচুর করেছ। এ সময় জনরোষ থেকে বাঁচতে ক্লিনিকের চিকিত্সক, নার্স ও কর্মচারীরা পালিয়ে যায়। সোমবার রাতে বগুড়া শহরের বাদুড়তলায় সারা হসপিটাল এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকার ব্যবসায়ী উজ্জলের স্ত্রী সুইটি বেগমকে (২৬) সোমবার ভোরে ৪টায় সারা হসপিটালে ভর্তি করা হয়। ঐ সময় ঐ ক্লিনিকে চিকিত্সক ডা. নিগার পারভীন অস্ত্রোপচারের (অপারেশন) মাধ্যমে সুইটি বেগমের একটি পুত্র সন্তান প্রসব করান। নিহতের স্বামী উজ্জলের অভিযোগ, অপারেশনের পর তার স্ত্রী এবং সন্তান সুস্থ ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ক্লিনিকের একজন নার্স সুইটি বেগমকে একটি ইনজেকশন পুশ করে। এ সময় নিহতের মা এবং খালা পাশে ছিলেন। এর আধা ঘন্টার মধ্যে সুইটি বেগমের মৃত্যু হয়। প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে নিহতের স্বজনসহ এলাকার লোকজন এসে ক্লিনিকে ভাংচুর শুরু করে। এর আগেই পরিস্থিতি আচ করতে পেরে ক্লিনিকের ডাক্তার, নার্সসহ সকল কর্মচারী সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে আধা ঘন্টা পর্যন্ত স্থানীয় লোকজন ক্লিনিকে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। রাত ১০টায় পুলিশ গিয়ে উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে নিহতের ব্যবস্থাপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। সেগুলো চিকিত্সক ও নার্সরা পালিয়ে যাবার সময় নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ সহিদ আলম জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়েছে। সেইসাথে তিনি আরও জানান, সারা হাসপাতাল নামের এই ক্লিনিকটি ছিল মূলত একটি আবাসিক হোটেল। সেটিকেই ক্লিনিক হিসেবে রূপান্তরিত করে চিকিত্সা সেবা দেবার অভিযোগ করেছে ্এলাকাবাসী। হাসপাতালের লোকজন গা-ঢাকা দিয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।