মিসরের রাজনৈতিক সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে আমেরিকা ও ইউরোপের কূটনীতিকরা নতুন করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত বার্নারদিনো লিওন ও মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম বার্নসা মিসরের সেনা-সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার ও মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতাদের সাথে বেঠক করার লক্ষ্যে তাদের কায়রো অবস্থানের মেয়াদ বাড়িয়েছেন। এছাড়া কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অংশ নিতে মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন ও লিন্ডসে গ্রাহাম গত সোমবার মিসরে গেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ’র মধ্যস্থতায় আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চাক হেগেল মিসরের সেনাপ্রধান জেনারেল আব্দুল ফাত্তাহ আল-সিসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। খবর এএফপি ও বিবিসির।
ইইউ দূত বার্নারদিনো লিওন সোমবার প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাবির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। এর আগে তিনি কারাগারে মুসলিম ব্রাদারহুডের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা খয়রাত আল-শাতেরের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জানান, মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম বার্নস ও ইইউ দূত লিওন রবিবার শাতেরের সঙ্গে দেখা করেছেন। এ সময় কাতার ও আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রীমন্ত্রী তাদের সঙ্গে ছিলেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মেরি হার্ফ বলেন, সহিংসতা রোধ, উত্তেজনা প্রশমন এবং একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে সহায়তা করতে সকল পক্ষের অংশগ্রহণে একটি সংলাপ অনুষ্ঠান ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যেই নেতৃদ্বয় মুসলিম ব্রাদারহুড নেতার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন। তবে মুসলিম ব্রাদারহুড মুখপাত্র জেহাদ আল-হাদ্দাদের মতে মুরসির সহকারী খয়রাত আল-শাতের দূতদ্বয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি তাদের শুধু এটুকু বলেন, মুরসির বৈধতা প্রশ্নে মুসলিম ব্রাদারহুডের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি।
গত ৩ জুলাই মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। এরপর থেকে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একশজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। মুরসিকে ক্ষমতা না ফিরিয়ে দেয়া পর্যন্ত মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
