বিসিএস পরীক্ষা মূলত স্বল্পপ্রস্তুতির কোনো পরীক্ষা নয়। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি নিয়েই ভালো করা সম্ভব এই পরীক্ষায়। যারা ৩৪তম বিসিএস’র লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছেন, তাদের তাই প্রস্তুতিটা শুরু করতে হবে এখন থেকেই।
লিখিত পরীক্ষার বিষয়
যারা সাধারণ ক্যাডারে আবেদন করেছেন, তাদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে নয়টি পরীক্ষায়। বাংলা দুই পত্রে ২০০, ইংরেজি দুই পত্রে ২০০, বাংলাদেশ বিষয়ক সাধারণ জ্ঞানে দুই পত্রে ২০০, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সাধারণ জ্ঞানে এক পত্রে ১০০, গণিত ও মানসিক দক্ষতায় এক পত্রে ১০০ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যারা প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডারে আবেদন করেছেন, তাদের আবার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ২০০ নম্বরের পরীক্ষাতেও অংশ নিতে হবে। শুধু প্রফেশনাল ক্যাডারে আবেদনকারীদের জন্য অবশ্য বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ১০০ নম্বরে অংশ নিতে হবে না। লিখিত পরীক্ষায় সব বিষয়ে গড়ে ৫০ নম্বর পেলেই পাস করা যাবে। তবে কোনো বিষয়ে ২৫ নম্বরের নিচে পেলে সেই বিষয়ে কোনো নম্বর পরীক্ষার্থী পায়নি বলে বিবেচনা করা হবে। গড়ে ৫০ নম্বরে পাস হলেও মনে রাখতে হবে, ভালো ক্যাডার পেতে হলে লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার বিকল্প নেই।
যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন
বিষয় হিসেবে গণিত ও মানসিক দক্ষতা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে পরীক্ষায় ভালো নম্বর অর্জন করা সম্ভব। গণিত পরীক্ষার সবচেয়ে বড় সুবিধাটি হচ্ছে, সঠিক উত্তর করতে পারলে ৫০ নম্বরের ৫০ নম্বরই পাবেন। আর বিসিএস পরীক্ষায় যে ধরনের গণিত আসে, সেগুলো সাধারণত অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণীর সমমানের। তাই গণিত চর্চায় নজর দিন।
যাদের এসএসসি বা এইচসিতে বিজ্ঞান বিষয় নেই, তারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ১০০ নম্বর নিয়ে খুব চিন্তায় থাকেন। তবে নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই আপনাকে যথেষ্ট সাহায্য করে থাকে। আর বিজ্ঞান বিষয়ে যতটা না বেশি টেকনিক্যাল বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তার চেয়ে বেশি দৈনন্দিন বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি অংশে কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট বিষয়ে অনেক প্রশ্ন থাকে। এসব অংশের উত্তর ভালো প্রস্তুতির মাধ্যমে সঠিকভাবে দিতে পারলে প্রতিটি প্রশ্নে ৯০ শতাংশ বা অনেক ক্ষেত্রে শতভাগ নম্বর পাওয়া সম্ভব।
বাংলার ক্ষেত্রে ব্যাকরণ এবং সাহিত্যে দখল থাকলে ব্যাকরণ অংশে পূর্ণাঙ্গ নম্বর এবং সাহিত্যের অংশে যে ৩০ নম্বরের ছোট প্রশ্ন থাকে, তাতে অনেক ভালো নম্বর পাওয়া যায়। ইংরেজির ক্ষেত্রেও ব্যাকরণে দক্ষতা থাকলে সেই প্রশ্নগুলোতে পূর্ণাঙ্গ নম্বর পাওয়া যায়। আর উভয় বিষয়েই ফ্রিহ্যান্ড রাইটিং এবং এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদের দক্ষতা থাকা জরুরি।
সাধারণ জ্ঞানের বাংলাদেশ বিষয়াবলীতে প্রথম পত্রে দেশের ইতিহাস ও ভৌগলিক অবস্থান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা এবং সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। আর দ্বিতীয় পত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রশাসনিক কাঠামো, পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে আমাদের সম্পর্কের বিষয়গুলোতে। আর এই পত্রে সংবিধান থেকেও প্রশ্ন হয়ে থাকে। তাই সংবিধানের দিকে নজর রাখতেই হবে।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতির আলোচিত ঘটনা, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী, বাংলাদেশের সাথে বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতির সম্পর্ক, কূটনীতি প্রভৃতি বিষয়েই জোর দেওয়া হয়। তাই দৈনিক পত্রিকা মনোযোগ দিয়ে পড়ে নেওয়া ভালো।
পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর খাতার সৌন্দর্যও অবহেলার বিষয় নয়। আর প্রতিটি প্রশ্নেই যথাসম্ভব গুছিয়ে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে উত্তর দেওয়াই শ্রেয়। কেবল উত্তরের আয়তন বাড়ানোর জন্য অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা করা উত্তরের মানকেই কেবল ক্ষুণ্ন করবে।
