নারীনেত্রীদের অভিমত

নারীর নিরাপত্তা রাষ্ট্রকেই দিতে হবে

আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ২২:৪২

ধর্ষণের শিকার নারীদের দ্রুত বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নারীনেত্রীরা। তারা বলছেন, ধর্ষণসহ সকল নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ জরুরি। তারা বলেন, নারী সম্পর্কে মনোভাব বদলানোর সময় এসেছে। আগে নারীকে ঘরের বাইরে এসে পুরুষের পাশাপাশি কাজ করার আহ্বান জানানো হতো। এখন নারীরা বাইরে বের হয়ে এসেছে। কিন্তু নারীরা রাস্তা-ঘাটে, বাসে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, তাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাদের বাইরে চলাচলের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকেই। তা না হলে নারীর যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে তা বাধাগ্রস্ত হবে। আর তা যদি হয় তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে, সামাজিক অগ্রগতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

দ্রুত বিচারের বিকল্প

নেই : মেহের আফরোজ চুমকি

এ প্রসঙ্গে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি এমপি বলেন, মানুষের মাঝে বিকৃতি বাড়ছে। বিকৃত মানসিকতার প্রকাশ ঘটছে ধর্ষণের মধ্য দিয়ে। এর সমাধানে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ এবং পরিবারকে সমষ্টিগতভাবে কাজ করতে হবে। পরিবার হচ্ছে নৈতিকতা শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র। সেখানেই শিশুদের নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া সবচেয়ে জরুরি।

মূল্যবোধের অবক্ষয় ধর্ষণ

বৃদ্ধির মূল  কারণ: খুশি কবীর

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশি কবীর বলেন, ধর্ষণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ আমাদের সমাজে মূল্যবোধের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। টাকা, ক্ষমতার দাপট দেখানো, স্মার্ট ফোনে পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা- সমাজে বিকারগ্রস্ত একটি মানসিকতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ সবাই এর প্রভাবে আবর্তিত। শিশুদের মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলবার প্রধানতম ক্ষেত্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধর্ষণ করছে ছাত্রীকে। বাড়িতেও নৈতিকতার চর্চা নেই। ঘুষ নেওয়া, দুর্নীতিপ্রবণ পিতা-মাতার সন্তানদের আর যাই হোক নৈতিকতাবোধ দৃঢ় হয় না।

সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

প্রদর্শন করুক: মালেকা বানু

দেশের বিশিষ্ট নারীনেত্রী বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু ইত্তেফাককে বলেন, একটা দেশে এমন অবস্থা চলতে পারে না! ঘরে বাইরে, রাস্তায়, বাসে মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। শুধু ধর্ষণ করে থামছে না তাকে পুড়িয়ে, নির্যাতন করে হত্যা করছে। কিন্তু অপরাধীদের বিচার হচ্ছে না। আর সে কারণেই ধর্ষণ বাড়ছে। কারণ অপরাধী মনে করছে সে পার পেয়ে যাবে, তার বিচার হবে না। একজন ধর্ষিতা নারী সবসময় থানায় গিয়ে আশ্রয় ও সহযোগিতা পাচ্ছে না। তার আলামত নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে এই পরিস্থিতি বদলাবে না।