ঈদ আসবে ঈদ চলেও যাবে। ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে/ এল খুশির ঈদ/তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে’...গাইবে টিভি চ্যালেনগুলোতে শিল্পীরা। এবং তাদের কাছেই ঈদ হবে বড়ই আনন্দ ও উপভোগ্য। কেউবা এই গানটা টিভি পর্দায় দেখে দেখে ঈদের আনন্দটুকু উপভোগ করেন। কিন্তু দেশের মানুষের মধ্যে ঈদের সেই আনন্দ এইযুগে কি আর ভাবা যায়।
আজকাল তো দেশের সিংহভাগ ছেলেপুলে বাবা-মায়ের আর্থিক দৈন্যের কথা ভেবে একটিবারের জন্য আবদার করেও বলে না নতুন জামা-কাপড় আর জুতা দাও। ক’জনের সামর্থ্য আছে ঈদের জামা-কাপড় কিনবার! মোরগ-পোলাও, বিরানি, রোস্ট, রেজালা, জরদা-ফিন্নি তৈরি করে খাওয়ার সামর্থ্য দেশের ৮০ ভাগ লোক ভুলেই গেছে। ভুলবেই না কেন, আর্থিক সামর্থ্য যে তাদের মধ্যে নেই। ঈদ এলে কোনোভাবে প্রায় প্রতিটি পরিবার “ঘি’ দিয়ে নয় ‘ডালডা’ দিয়ে পোলাও তৈরি করে আর এরই সঙ্গে একটুকরো কি দুই টুকরো মাংস খায়। কেউই যেন আজ আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীকে নিয়ে পোলাও, মাংস, জরদা, ফিন্নি খাওয়ার কথা ভাবতেই পারে না। নামাজ শেষে ইদ মোবারক- ঐটুকুই। যে যার ঘরে ফিরে যায়। দীর্ঘ ৩০ দিন ধরে রোজা রাখার পরে দিনটি শুয়ে শুয়ে পার করেন। অথচ আমাদের শৈশবে ঈদের আনন্দ ছিল কতই না মধুময়। মনে পড়ে ছোট শহর পিরোজপুরে তত্কালীন মন্ত্রী সৈয়দ আফজাল মিয়ার বাড়ির সামনেই ঈদগাহ মাঠ- সেখানে আজ থেকে ৫০ বছর আগে নামাজ পড়ে সাথিদের সঙ্গে ঈদের মোলাকাত করা। সারাটা দিন কেটে যেতো সাথিদের বাড়িতে জরদা-ফিন্নি-পোলাও-কোরমা খেয়ে। রাতেও খাওয়া-দাওয়া চলতো বেশ ধুমধাম সহকারে। সেইসব দিনে বড় ভাইরা ঈদের ছবি ‘চন্দ্রশেখর’ দেখে গাইতো- ‘ঈদের চাঁদ হেরি নভোতলে রে হিয়া দোলে রে.... বুঝি মোর প্রিয়তম এলো বলে’।
ঈদের পরেরদিনও থাকতো দাওয়াত- ঈদ যেন শেষ হতে চাইতো না। আর এখন ঈদ আসতে না আসতেই তা যেন ফুরিয়ে যায়। হায় রে কোথায় গেল সেই ঈদের আনন্দ!!
লিয়াকত হোসেন খোকন, রূপনগর, ঢাকা
