রাজশাহীর চারঘাটে চিটাগুড়, চিনি, আটা ও রং মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেজাল গুড়। ঈদকে সামনে রেখে রমজান মাসের বাড়তি গুড়ের বাজার ধরতে রাত-দিন চলছে এইসব কারখানা। উপজেলার গ্রাম থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভেজাল গুড়ের কারখানা এবং এভাবে তৈরি গুড় ঢাকা, রাজশাহী, নাটোরসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গুড় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির সভায় ভেজাল গুড়ের কারখানার বিষয়টি উঠেছে। তার পরেও এই গুড় উত্পাদন চলছেই। বাজারে এক কেজি চিটা গুড়ের দাম এখন ১২ টাকা, গমের লাল আটা ২৬ টাকা ও লালচে রঙের চিনির দাম ৪১ টাকা। এই তিন ধরনের তিন কেজি উপাদান এক জায়গায় করলে ওজন দাঁড়ায় সাড়ে তিন কেজি। পানি ধারণ করার কারণে চিনির ওজন আধা কেজি বেড়ে যায়। প্রতি কেজি গুড় বাজারে এখন ৪২ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় গুড় ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাসে শরবতের জন্য এবং ঈদে বিভিন্ন মিষ্টান্ন দ্রব্য তৈরির জন্য বাড়তি গুড়ের প্রয়োজন পড়ে। গুড়ের এই বাড়তি চাহিদা মেটানোর জন্য চারঘাটের ভেজাল গুড় ব্যবসায়ীরা উঠে পড়ে লেগেছেন। উপজেলার মেরামতপুর দিড়িপাড়া, পিরোজপুর ঢালিপাড়া, কাঁকড়ামারী, চাঁনপুর, কাঁকড়ামারী ঘোষপাড়া, পরানপুর, রউথাসহ প্রায় ১৫টি গ্রামে এই গুড় তৈরি হচ্ছে। এগুলো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। ১৪ জুলাই চারঘাট উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কমিটির সদস্য ও প্রেসক্লাব সভাপতি এস এম মোজাম্মেল হক ভেজাল গুড়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। তারপরেও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ আমিনুল ইসলাম জানান, খাদ্য রং কখনো চামড়ায় লাগে না। আর এই রং পানি দিয়ে ধুয়েও তোলা যায় না। এই বিষাক্ত রং কিডনীসহ দেহের ভেতরে বিভিন্ন অঙ্গে প্রলেপ পড়ে নানা রোগের কারণ হয়। চারঘাট থানার ওসি শাকিল আহাম্মেদ বলেন, এলাকার লোকজনের পক্ষ থেকে এই বিষাক্ত গুড় তৈরির অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেছেন। অতিসত্বর তারা অভিযান চালাবেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্সী মনিরুজ্জামান বলেন, গত বছর অভিযান চালানো হয়েছিল।
