টাঙ্গাইলে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫শ টাকায়। আর একজন শ্রমিকের দিনমজুরি ৮৫০ টাকা। এতে প্রতি মণ ধানে কৃষককে গুনতে হচ্ছে লোকসান। এমন পরিস্থিতিতে ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কালিহাতীর আব্দুল মালেক সিকদার নামের এক কৃষক নিজের পাকা ধানে আগুন দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম, পাবনা, নওগাঁসহ বিভিন্ন স্থানে কৃষি শ্রমিকের উচ্চমূল্য ও সংকটের খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ধান কাটতে মাঠে নেমে পড়েছে। ধান বিক্রি করে উত্পাদন খরচ না ওঠায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কালিহাতী (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা এলাকায় গত রবিবার দুপুরে কৃষক মালেক তার ধানখেতে পেট্টোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এই অভিনব প্রতিবাদে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এলাকার অধিকাংশ কৃষক। এ বিষয়ে মালেক সিকদার বলেন, ‘প্রতিমণ ধানের দাম থেকে শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ। এবার ধান আবাদ করে আমরা মাঠে মারা পড়েছি। তাই মনের দুঃখে পাকা ধানে আগুন দিয়েছি।’
এদিকে কালিহাতীর আউলটিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান মজনু নামের আরেক কৃষক তার খেতের পাকা ধান এলাকাবাসীকে বিনামূল্যে দিয়ে দিয়েছেন। উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন ধানে আগুন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএম শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উত্পাদন খরচ ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা। আর ধানের বর্তমান বাজার মূল্যে প্রতি বিঘায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা কৃষকের লোকসান হচ্ছে। এমতাবস্থায় কৃষিকাজে যান্ত্রিকীকরণ ও ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার এলেঙ্গাতে শ্রমিকের হাটে গিয়ে দেখা যায় ধান কাটতে একজন শ্রমিক প্রতিদিনের জন্য ৮শ থেকে ৯শ টাকা চাচ্ছেন। সেইসঙ্গে তাদেরকে ধানের জমির মালিককে তিনবেলা খাবারও দিতে হবে।
পাবনা প্রতিনিধি জানান, আটঘরিয়া উপজেলার নাদুরিয়া গ্রামের কৃষক ইউসুফ মিয়া নিজের জমিতে প্রতিদিন শ্রমিকপ্রতি ৭শ থেকে ৮শ টাকা মজুরি দিয়ে ধান কাটাচ্ছেন। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে পেটপুরে খাওয়ানোর ব্যবস্থা। মাড়াইয়ের জন্য আলাদা খরচ। উত্পাদিত ধান বিক্রি করে তিনি হিসেব করে দেখেন তার লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠছে না। প্রতিমণ ধানে তার ১০০ থেকে ২০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
পত্নীতলা (নওগাঁ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা চরম শ্রমিক সংকটে ভুগছেন। গত বছর চুক্তিভিত্তিতে বোরো ধান কাটার জন্য যেখানে শ্রমিকরা মণপ্রতি ছয়-সাত কেজি ধান পেত এ বছর তারা মণপ্রতি ১৫-১৮ কেজি পর্যন্ত ধান প্রদানে বাধ্য করছে কৃষকদের।
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না কৃষকরা। জানা গেছে, এ উপজেলায় মণপ্রতি ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫৬০ টাকা। আর একজন ধান কাটার শ্রমিকের দৈনিক মজুরি পড়ে ৭০০ টাকার উপরে। অথচ বীজতলা শুরু করে প্রতি মণ ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে এক হাজার টাকার উপরে।
