কুমিল্লায় ঈদের আগে ভিজিএফ’র চাল পাচ্ছে না ৭শ’ দুস্থ পরিবার

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:২১
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের (সদস্য) দ্বন্দ্বের জেরে ঈদের আগে ভিজিএফ’র চাল পাচ্ছে না ওই ইউনিয়নের প্রায় ৭শ’ দুস্থ ও হত-দরিদ্র পরিবার। দুই পক্ষই দুস্থদের ভিন্ন ভিন্ন তালিকা করেছেন। এক পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও তুলছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে অতিদরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সরকার উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়নে ৬৯২টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেয়। কার্ডধারীরা বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চাল পাবেন। এজন্য নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ভিজিএফ কার্ডের তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে দাখিল করবেন। দারোরা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের মোক্তার ওই ইউপির ১২ জন সদস্যের মধ্যে কারো মতামত গ্রহণ না করে নিজের পছন্দমত তালিকা তৈরি করেন। এতে ইউপি সদস্যরা গত সোমবার তাকে অপসারণের দাবি জানিয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে অনাস্থাপত্র প্রেরণ করেন। জানা গেছে, এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মেম্বারদের দ্বন্দ্ব চলছে। মুরাদনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কেবিএম জাকির হোসেন জানান, আমরা ডিও দেয়ার পরও ওই ইউপি চেয়ারম্যান তালিকা পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই ঈদের আগে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খান জানান, ‘চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মেম্বারদের অনাস্থাপত্রটি জেলা প্রশাসক বরাবরে মঙ্গলবার প্রেরণ করা হয়েছে। ঈদের আগে অতিদরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ করতে না পারার বিষয়টি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’