কমলগঞ্জের উদ্যান জলপ্রপাত হ্রদে প্রাকৃতিক সুরক্ষা চাই

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৫
প্রাকৃতিক ছায়া নিবিড় পরিবেশে একটু প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে ঈদের আনন্দ উপভোগে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত ও চা বাগানসহ বিভিন্ন পর্যটনসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক স্থানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে আকর্ষণ। ঈদুল ফিতরের কয়েকদিনের ছুটিতে এসব স্থানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে সুন্দর মনোরম পরিবেশ। প্রকৃতিতে স্বস্তি খুঁজে পেতে শহরের ইট-দালানের বেড়া থেকে মানুষ প্রাণের টানেই ছুটে যায় প্রকৃতির লীলাভূমি এসব পর্যটন কেন্দ্রসমূহে। কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, ডবলছড়া খাসিয়াপুঞ্জি, হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, হ্রদ মণিপুরীসহ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবনধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ যে কোন পর্যটকের মন কেড়ে নেবে। দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঈদে পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে কিছুটা সংস্কার কাজ করলেও পরিবেশ রক্ষায় তাদের তেমন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান পশুপাখি, বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল। এ উদ্যান বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় জীব উল্ল¬ুকসহ কয়েকটি জন্তু ও বিলুপ্তপ্রায় মূল্যবান গাছ-গাছালির শেষ নিরাপদ আবাসস্থল। এই উদ্যান ভ্রমণ পিপাষুদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির প্রাণবৈচিত্র্যের ভিতর ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির অর্কিড, ২০ প্রজাতির স্তন্যপ্রায়ী প্রাণী এবং ১৭ প্রজাতির পোকামাকড় রয়েছে। নানা প্রজাতির পাখির ডাক, বনফুল, অর্কিড, চশমাবানর, উল্ল¬ুক এগুলো এই বনের বিশেষ আকর্ষণ। এ বনের বিচিত্র পশু-পাখি ও পোকা-মাকড়ের অদ্ভুত ঝিঝি শব্দ, বানরের ভেংচি, ভাল¬ুকের গাছে গাছে ছুটাছুটির দৃশ্য পর্যটকদের হল্লা-চিত্কার, মাইকের উচ্চশব্দ আর যানবাহনের চাপে বিনষ্ট হয়ে পড়ছে। এছাড়া সাপসহ বিভিন্ন প্রাণী যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। কমলগঞ্জের লেখক গবেষক আহমদ সিরাজ, সমাজসেবী তোয়াবুর রহমান বলেন, কর্তৃপক্ষের একটু অমনোযোগিতার কারণে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে জীব-বৈচিত্র্যের জন্য শান্ত নিবিড় পরিবেশ ক্রমাম্বয়ে বিনষ্ট হতে চলেছে। তারা বলেন, এমনিতেই কাঠ পাচারকারীদলের কারণে বনভূমি বিরান হচ্ছে, তার উপর জাতীয় উদ্যানে পর্যটনকেন্দ্রসহ অধিক লোক সমাগম, রেলপথ ও সড়কপথ এবং বনভোজনকারী দলের তত্পরতা জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শুধু রাজস্ব আয় না দেখে জাতীয় স্বার্থে প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সকল মহলকে এগিয়ে আসতে হবে।