মিসরের সঙ্কট নিরসনে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা ‘ব্যর্থ’ হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সেনা সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার। এ পরিণতির জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকেও দায়ী করেছে। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে সরকার বলেছে, ১০ দিনেরও বেশি সময় আগে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ‘শেষ হয়েছে’। রাষ্ট্র এ সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়া এবং এর ফলে পরবর্তী যা কিছু ঘটবে তার সবকিছুর জন্য মুসলিম ব্রাদারহুডকেই দায়ী মনে করছে। খবর রয়টার্সের।
সরকারের এ ঘোষণায় আলোচনার মাধ্যমে মিসরের সঙ্কট নিরসনের সম্ভাবনা বিশাল ধাক্কা খেল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্রাদারহুডের প্রতিবাদ সরকার ও সেনাবাহিনী শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে শেষ করতে চাইছে, এটি তারই ইঙ্গিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যস্থতার জন্য মিসরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন জ্যেষ্ঠ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও জন ম্যাককেইন মিসর সরকারকে রাজবন্দিদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মুরসির সঙ্গে আলোচনারও আহ্বান জানিয়েছিলেন। ম্যাককেইন বলেছেন, আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ‘সর্বাত্মক রক্তপাত আসন্ন। কিন্তু দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আদলি মনসুর তাদের এ আহ্বানকে ‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনাকাঙ্খিত হস্তক্ষেপ’ বলে সমালোচনা করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতরাও মিসরে সঙ্কট নিরসনের চেষ্টায় কাজ করছেন। কিন্তু মিসর সরকার মুরসিপন্থিদের অবস্থান কর্মসূচি ভেঙে দিতে তত্পর হয়ে দেশে আরো সহিংসতা ও রক্তক্ষয় ডেকে আনবে বলে তারা শঙ্কিত।
গত ৩ জুলাই ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। এর পর থেকে প্রতিবাদ বিক্ষোভে চালিয়ে যাচ্ছে মুরসির প্রধান সমর্থক গোষ্ঠী মুসলিম ব্রাদারহুড।
