চাঁদাবাজিতে বাধা দেয়ার জের

কলারোয়ায় শ্রমিক লীগ নেতাকর্মীদের হাতুড়িপেটা করলেন যুবলীগ নেতা

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১০
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় যুবলীগ ও শ্রমিক লীগ নেতাদের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় যুবলীগ নেতার হাতুড়ি পেটায় আহত হয়েছেন শ্রমিক লীগের ৮ জন কর্মী ও সমর্থক। উপজেলা যুবলীগ নেতা কাজী আসাদুজ্জামান শাহজাদার চাঁদাবাজিসহ আপত্তিকর কথার প্রতিবাদ করায় শ্রমিক লীগের উপর এ আক্রমণ চালানো হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় কলারোয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ সাহ দারা খান জানান, মঙ্গলবার ৪টার দিকে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক কাজী আসাদুজ্জামান শাহজাদা তার সহযোগীদের নিয়ে আলীয়া মাদরাসা মোড়ে বসে গরুর ট্রাকসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক আশিকুর রহমান মুন্না ঘটনাস্থলে এসে চাঁদা তুলতে বাধা দেন। এক পর্যায়ে তিনি বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিতে অভিযোগ করা হবে বলে চলে যান। পরে বিকাল ৫টার দিকে যুবলীগ নেতা শাহজাদার নেতৃত্বে ১০/১২ জন নেতাকর্মী কলারোয়া থানার সামনে এসে শ্রমিক লীগ নেতাকে ধাওয়া করে। এ খবর জানতে পেরে শ্রমিক লীগের ৭/৮ জন পাল্টা ধাওয়া করলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা কৌশলে শ্রমিক লীগের সবাইকে আটক করে ফেলে। এ সময় যুবলীগ নেতা শাহাজাদা শ্রমিক লীগের সবাইকে হাতুড়ি পেটা করে আহত করেন। এলোপাতাড়ি হাতুড়ির আঘাতে শ্রমিক লীগ নেতা মুন্নার মাথা ফেটে যায়। আহতদের কলারোয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মুন্নার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত মু্ন্নার স্ত্রী হিরা খাতুন বাদি হয়ে গতকাল বুধবার কলারোয়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় যুবলীগ নেতা কাজী আসাদুজ্জামান শাহজাদা, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ ইমরান হোসেনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এর আগে তার হাতে আশরাফ হোসেন, অধ্যাপক আবু জাফরসহ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। শাহজাদার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যুবলীগের জেলা কমিটিকে আনেক বার সুপারিশ করলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এ অবস্থায় দলীয়ভাবে তিনি অসহায়, তার কিছুই করার নেই। কলারোয়া থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুবর রহমান মিনি জানান, আসামিরা গা-ঢাকা দিয়েছে। সোর্স লাগানো হয়েছে যে কোন মুহূর্তে তাদের গ্রেফতার করা হবে।