মহাসাগরের ১১ কিলোমিটার নিচে গেল মানুষ, মিলল প্লাস্টিক বর্জ্য!

আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ২২:৪৮

প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতম অংশ মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশে ১১ কিলোমিটার নিচে নেমেছে মানুষ। এই অভিযানের মধ্যদিয়ে মহাসাগরের সব থেকে গভীরে যাওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়লেন ৫৩ বছর বয়সী মার্কিন বিনিয়োগকারী ভেসকোভো। ১ মে এই অভিযান সম্পন্ন হলেও গত সোমবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। অবাক করার বিষয়, মহাসাগরের এতো গভীরেও প্লাস্টিক বর্জ্যের সন্ধান মিলেছে।

নিজের এই অভিযান সম্পর্কে ভেসকোভো বলেন, মানুষের মধ্যে অজানাকে জানার প্রবল আগ্রহ থাকার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। এই প্রবৃত্তির কারণেই আমরা বারবার এই ধরনের অভিযানের প্রতি আকৃষ্ট হই। এ যাত্রায় ভেসকোভো অনাবিষ্কৃত চারটি প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন। এক সাক্ষাত্কারে ভেসকোভো বলেন, মহাসাগরের গভীরতম পয়েন্টে মানুষের সৃষ্ট দূষণের পরিষ্কার নমুনা দেখাটা অত্যন্ত হতাশাজনক।

পানির প্রবল চাপ সহ্য করার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সাবমেরিনের ভিতরে বসে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের প্রায় ১১ কিলোমিটার গভীরে গিয়েছিলেন অভিযাত্রী ভিক্টর ভেসকোভো, যা একটি নতুন রেকর্ড। ভেসকোভো মারিয়ানা ট্রেঞ্চের ১০ হাজার ৯২৭ মিটার (৩৫,৮৪৯ ফুট) গভীরে পৌঁছান। এ যাত্রায় তিনি ১৯৬০ সালের অভিযাত্রীদের চেয়ে ১৬ মিটার (৫২ ফুট) গভীরে নেমেছিলেন। নিজের সাবমেরিনে বসে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশে চার ঘণ্টা ছিলেন ভেসকোভো।

কিন্তু ওই গভীরতায় গিয়ে তিনি মানব সৃষ্ট বর্জ্য দেখতে পেয়ে যথেষ্ট পরিমাণ হতাশ হয়েছেন। সেখানে সামুদ্রিক প্রাণির পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যাগ ও চকোলেটের প্যাকেট দেখতে পেয়েছেন তিনি। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো মহাসাগরের গভীর তলদেশে পৌঁছাল মানুষ। প্রথমবার ১৯৬০ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ডন ওয়ালশ এবং সুইস প্রকৌশলী জ্যাক পিকার্ড একটি বিশেষ যানে করে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের তলদেশে গিয়েছিলেন। এরপর ২০১২ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক জেমস ক্যামেরন সবুজ রঙয়ের একটি সাবমেরিন নিয়ে একাই গিয়েছিলেন মারিয়ান ট্রেঞ্চের তলদেশে।

জাতিসংঘেরে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত বিশ্বের সাগরগুলোতে ১০ কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হয়েছে। মহাসাগরের গভীরে থাকা তিমির মতো স্তন্যপায়ীদের পেটেও প্লাস্টিকের কণা পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। -সিএনএন