আন্তরিকতা থাকলে একদিনেই আলোচনা সম্ভব :সৈয়দ আশরাফ

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১৩
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই বিদ্যমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আন্তরিকতা থাকলে একদিনের আলোচনায় সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিরোধী দল যদি আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে সহায়তা করে তবে অবশ্যই আলোচনা হবে। তবে সবাইকে মনে রাখতে হবে, একমাত্র নির্বাচন ছাড়া একটি নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত করা সম্ভব নয়। সবার অংশগ্রহণে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে একটা সরকার গঠন করতে পারলেই দেশে শান্তি আসবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভেদ যাই হোক না কেন, আলোচনার মাধ্যমেই কেবল সমস্যার সমাধান সম্ভব। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয় এবং ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সৈয়দ আশরাফ বলেন, দুই মাস পরে সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এই দুই মাসের মধ্যে বিরোধী দলের সঙ্গে আদৌ আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট সঙ্কটের সমাধান সম্ভব কী না- এমন প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই মুখপাত্র বলেন, দুই মাস কেন, আন্তরিকতা থাকলে এক দিনেই আলোচনা সম্ভব। আর বিরোধী দল যদি আলোচনার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করেন তবে অবশ্যই আলোচনা হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ঈদের পর আন্দোলন করলে জনগণেরই ক্ষতি হবে, আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আগাম ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, বিলবোর্ডে মহাজোট সরকারের উন্নয়ন প্রচার নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন। আমরাই এই প্রচারের ব্যবস্থা করেছি। এটাও একটা প্রচারের মাধ্যম। আগে তো বিলবোর্ডেই সবকিছু প্রচার হতো। এখন প্রচারে অনেক রেডিও, টেলিভিশন, গণমাধ্যম হয়েছে। তিনি বলেন, গত সাড়ে চার বছরে আমরা দেশ ও জাতির জন্য যা করেছি তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরলে সমস্যা কী? আর বিলবোর্ড তো নিষিদ্ধ কোন জিনিস নয়। বরং দেয়াল লিখন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক নির্বাচনী প্রচারে বিলবোর্ডের অধিক ব্যবহারের উদাহরণ তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের সাড়ে চার বছরের ব্যাপক উন্নয়ন ও সাফল্যে জাতির সামনে প্রচার হোক এটা যারা চান না, তারাই বিলবোর্ড নিয়ে বিরোধিতা করছেন। সরকারের এতো উন্নয়ন দেখে তারা নাখোশ হয়েছেন। আসলে বিলবোর্ডের প্রচার নিয়ে নোংরা রাজনীতি চলছে। বিএনপিকেও তাদের সরকারের আমলে জনগণের জন্য কী করেছে তা বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচারের আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, বিএনপিকেও আহ্বান জানাই- আপনারা কী করেছেন তা বিলবোর্ডের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরুন। তাহলে দেশের জনগণ কোন সরকারের আমলে দেশের কেমন উন্নয়ন হয়েছে তা তুলনামূলক বিচার করতে পারবে। বিভিন্ন টকশোসহ সভা-সমাবেশে সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। আমরা প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরেছি বলেই অনেকের অনেক সমস্যা হচ্ছে। ইফতার মাহফিলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নূহ-উল-আলম লেনিন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ড. হাছান মাহমুদ, অসীম কুমার উকিল, মৃণাল কান্তি দাস, ডা. বদিউজ্জামান ভুঁইয়া ডাব্লু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।