আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১৪
আজ বৃহস্পতিবার সূর্য অস্ত যাওয়ার পর পশ্চিমাকাশে সবার দৃষ্টি থাকবে। আকাশে মেঘের ফাঁকে এক ফালি চাঁদ উঁকি দিলেই রাতকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মানুষের উত্তেজনার কমতি থাকবে না। শাওয়ালের চাঁদ মানেই রাত পোহালেই কাল খুশির ঈদ। ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে আনন্দময় টেনশনে কেটে যাবে আজকের পুরো দিন। সারাদেশে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে কয়েকদিন আগে থেকেই। রাজধানীসহ সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য ও উত্সাহ উদ্দীপনায় ঈদ উদযাপনের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পশ্চিমাকাশে শাওয়ালের চাঁদ ভেসে উঠার পরই বিটিভিসহ সকল বেসরকারি টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং এফএম রেডিও থেকে ভেসে আসবে চিরচেনা সেই গান ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ’। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা এ গানটি সবাই একবার হলেও গুন গুন করে গেয়ে থাকেন। ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। একই সাথে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। প্রসঙ্গ ঈদের চাঁদ আবহাওয়া অধিদফতর সূত্র জানায়, নতুন চাঁদের জন্ম হয়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ৫১ মিনিটে চাঁদের জন্ম হয়। এটি হচ্ছে চাঁদের প্রথমা। সাধারণত চাঁদের প্রথমা কখনোই দেখা যায় না। আজ বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে ১ দশমিক ৬১৫ অর্থাত্ দেড় দিনের সামান্য বেশি। আবহওয়া অধিদফতর বলছে, দেশের আকাশে মেঘের বিচরণ থাকবে বেশি। বিশেষ করে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগে। সে সাথে বৃষ্টিপাত হবে। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের আকাশে মেঘ থাকলেও তা কিছুটা কম হবে। আর সে কারণে কক্সবাজার, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া থেকে পশ্চিমাকাশে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক এদিকে আজ বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর ৭টা ১০ মিনিটে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসছে। দেশের কোথাও ১৪৩৪ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে দ্রুততার সাথে সে খবর ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের টেলিফোন নম্বরগুলো হচ্ছে ৯৫৫-৯৪৯৩, ৯৫৫-৯৬৪৩, ৯৫৫-৫৯৪৭, ৯৫৫-৬৪০৭ এবং ৯৫৫-৮৩৩৭। ফ্যাক্স নম্বর ৯৫৬-৩৩৯৭। ঈদ অর্থ আনন্দ ঈদ-উল-ফিতর হচ্ছে আরবী শব্দ। বাংলায় এর অর্থ আনন্দ, উত্সব ও খুশী। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান। ঈদের চাঁদ পশ্চিম আকাশে দেখার পর ছোট-বড়, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল মুসলমানের অন্তর আনন্দে ভরে ওঠে। রাতে বাসা-বাড়িতে মহিলারা ঈদের দিন সকালের নাস্তাসহ রান্না ও ঘর সাজানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটান। আবার চাঁদ দেখার পর অনেকেই ছোটেন বাজারে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করতে। আর ঈদের রাতে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় কাঁচা বাজারে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গণযোগাযোগ অধিদফতরের উদ্যোগে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকিটে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের সকল শিশুপার্কে প্রবেশ ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকিটে ঢাকা জাদুঘর প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে রাজধানীতে প্রীতি ফুটবল খেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে শিশুদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঈদের ছুটি আজ বৃহস্পতিবার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত সংবাদপত্রে ছুটি থাকায় আগামীকাল শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত পত্রিকা প্রকাশিত হবে না। তবে ঈদ আগামী শনিবার হলে এ ছুটি রবিবার পর্যন্ত থাকবে এবং সেক্ষেত্রে আগামী সোমবারও পত্রিকা প্রকাশিত হবে না। আগামী সোমবার সংবাদপত্র অফিস খুলবে এবং পরদিন মঙ্গলবার থেকে যথারীতি পত্রিকা প্রকাশিত হবে। ঈদ-উল-ফিতরের তাত্পর্য উল্লেখ করে সংবাদপত্র বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। তাছাড়া প্রায় দৈনিকগুলো বই আকারে ঈদের বিশেষ সংখ্যা বের করেছে। বিটিভিসহ প্রতিটি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ও বাংলাদেশ বেতারসহ এফএম ব্যান্ডের প্রতিটি চ্যানেল সপ্তাহ জুড়ে ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক এবং সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক খচিত পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে। ঈদের দিন সরকারি হাসপাতাল, এতিমখানা, কারাগার ও ভবঘুরে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। শাহবাগে শিশু পার্ক ঈদের দিন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ঈদ করার জন্য নাড়ির টানে শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত গ্রামের বাড়ির পথে শত কষ্ট উপেক্ষা করে শবে কদরের দিন থেকেই হাসিমুখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে লোকজন। ইতিমধ্যে লাখ লাখ লোক গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে একত্রে ঈদ উদযাপনের জন্য শেষ মুহূর্তে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলার লোকজন আজ বাড়ির পথে পা বাড়িয়েছেন। গতকালই অধিকাংশ লোক রাজধানী ছেড়েছেন। রাজধানীর চিরচেনা ব্যস্ততা ও নিত্য যানজট চলতি সপ্তাহে দেখা যাবে না। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী ঈদের পর দেশব্যাপী ১৩ আগস্ট থেকে লাগাতার ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করায় এবার অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট কেটে অনেকে হরতালের কারণে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে টিকিট ফেরত দিয়েছেন। বিশেষ করে লোকজন গত সোমবার থেকে টিকিট ফেরত দেয়া শুরু করে। রাষ্ট্রপতির বাণী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান। তিনি এক বাণীতে বলেন, ঈদ মানে আনন্দের বন্যা, খুশির জোয়ার। প্রতি বছর মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর উচ্ছ্বাস, উদ্ভাস, আনন্দ, খুশি আর ভালবাসার সমারোহ নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। ঈদ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গড়ে তোলে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধন। ঈদের আনন্দ বিরাজমান হোক প্রত্যেক ঘরে ঘরে এবং ঈদ-উল-ফিতরের শিক্ষা আমাদের সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করুক—এ প্রত্যাশা করি।