আজ ২৯ রমজান। আমরা রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজানুল মোবারকের একেবারে শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছি। আজকের দিন এ বছরের জন্য রমজানের শেষ দিন ও আগামীকাল শাওয়াল মাসের এক তারিখ পবিত্র ঈদুল ফিতর হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আজ চাঁদ না উঠলে রমজান ৩০ পূর্ণ হবে ও আগামীকালও একটি রোজা হবে এবং পরশু ঈদুল ফেতর অনুষ্ঠিত হবে। মুমিন হূদয়ে যে কারণে একদিকে রমজানকে বিদায় জানানোর ব্যথা অন্যদিকে ঈদের আনন্দের গুঞ্জরণ সমানভাবে উত্সারিত হচ্ছে। আল্লাহ যাদের হায়াত দিবেন তারাই কেবল আগামী বছর আবার এই জান্নাতলাভের মাসটি পেয়ে ধন্য হবেন বিধায় রমজানের শেষ পর্যন্ত ও ঈদুল ফিতরের সমস্ত শরীয়তী কার্যক্রম সঠিকভাবে আমাদের সম্পাদন করা উচিত।
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত নবী (স.) ঈদের দিন দুই রাকআত সালাত পড়েন। তার আগে এবং পরে কোন সালাতই তিনি পড়েননি (সিহাহ সিত্তা ও মুসনাদে আহমাদ, বুলুগুল মারাম- ৩৫পৃঃ)। একদা ওয়াসিলাহ ঈদের দিনে রসূলুল্লাহ (স.) এর সাথে সাক্ষাত্ করে বলেন, আল্লাহ আমাদের এবং আপনার তরফ থেকে ঈদকে কবুল করুন। তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাকাব্বালাল্লা-হু মিন্না ওয়া মিনকা (ইবনে আদী)। রসূলুল্লাহ (স.) এর সাহাবীগণ যখন ঈদের দিন সাক্ষাত্ করতেন তখন একে অপরকে বলতেন তাকাব্বালাল্লা-হু মিন্না ওয়া মিনকা (ফতহুল বারী ২য় খণ্ড-৪৪৬ পৃঃ)। রসূলুল্লাহ (স.) ঈদগাহে যাবার সময় একটা লাঠি বা বল্লম নিয়ে যেতেন এবং সালাত শুরুর আগে সেটা তাঁর সামনে সুতরা হিসাবে ব্যবহার করতেন (বুখারী ১৩৩ পৃঃ)। অতঃপর তিনি আল্লাহু আকবার বলে তাকবীরে তাহরীমা বলে হাত বাঁধতেন। তারপর তিনি সানা পড়তেন (ইবিনে খুযায়মা)। নু’মান বিন বশীর (রা.) বলেন, রসূলুল্লাহ (স.) দুই ঈদের ও জুমআতে সূরা সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ’লা (সূরা-আ’লা) ও হাল আতা-কা হাদীসুল গাশিয়াহ (সূরা গাশিয়া) পড়তেন। আর যখনই ঈদ ও জুম’আ একদিনে পড়তেন তখনও তিনি ঐ সূরা দু’টিকে উক্ত দুই সালাতেই পড়তেন (মুসলিম ১ম খণ্ড ২৮৮পৃঃ)।
রসূলুল্লাহ (স.) বলেন, যেদিন ঈদুল ফিতরের দিন সেদিন আল্লাহতায়ালা ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করতে থাকেন। অতঃপর বলেন, হে আমার ফেরেশতাগণ! মজদুরের পুরস্কার কি, যে তার কাজ পুরোপুরি করেছে? তখন ফেরেশতাগণ বলেন, হে আমাদের প্রতিপালক! তার পুরস্কার তাকে পুরোপুরি এর প্রতিদিন দেয়া। এবার আল্লাহ বলেন, হে আমার ফেরেশতাগণ! আমার দাস ও দাসীরা তাদের ওপর চাপানো কর্তব্য পালন করেছে। তারপর তারা উচ্চঃস্বরে (তাকবীর) ধ্বনি দিতে দিতে দু’আর সালাতের জন্য (ঈদগাহে) রওয়ানা হয়েছে। আমার সম্মান ও গাম্ভীর্যের কসম! এবং আমার উদারতা ও উচ্চ মর্যাদার কসম! আমি তাদের ডাকে অবশ্যই সাড়া দেব। অতঃপর তিনি বলেন, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমাদের পাপগুলো পুণ্য দিয়ে বদলে দিলাম। নবী (স.) বলেন, তাই তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরতে থাকে (বায়হাকীর শুআবুল ঈমান, মিশকাত ১৮৬-১৮৩ পৃঃ)। আল্লাহ আমাদেরকে দীর্ঘ এক মাসের রোজা, তারাবীহ নামাজ, সাহারী, দান সদকাহ ও ফিত্রাহ গুলি কবুল করে নিয়ে এর বিনিময়ে জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে জান্নাতের উপযুক্ত করে নিন, আমীন ।
e-mail : [email protected]
