নিজের প্রিয় মানুষগুলোর কাছ থেকে দূরে থাকতে কারোই ভালো লাগবার কথা নয়। বিশেষ করে যাদেরকে দিনের পর দিন ধরে কাজ বা পড়াশোনার কারণে আত্মীয়-পরিজন ছেড়ে থাকতে হয় তারা বেশ ভালো করেই জানেন দূরে থাকার যন্ত্রণা। তবে এই দূরে থাকারও একটা লাভ আছে। আর সেই লাভটা হলো সম্পর্কের বন্ধন আরও মজবুত হওয়া। গবেষণার দোহাই দিয়ে এবার অন্তত এমনটাই জানিয়েছেন হংকং সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ক্রিস্টাল জিয়াং ও তার সহ-গবেষকরা। এজন্য আমেরিকার খ্যাতনামা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ জোড়া তরুণ-তরুণীর উপর দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা পরিচালনা করেন জিয়াং ও তার দল। এই জুটিদের কমপক্ষে অর্ধেকই তাদের প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে নানা কারণে কমবেশি ১৭ মাসের মতো সময় ধরে দূরে ছিলেন এবং তাদের মধ্যে মাসে কমপক্ষে একবার করে দেখা হয়েছিল। এভাবে কাছাকাছি থাকা কিংবা ৩৭ মাইল থেকে চার হাজার মাইল দূরে থাকা বিভিন্ন জুটিকে গবেষকরা একটি নির্দিষ্ট ছকে তাদের প্রতিবার দেখা হওয়ার বিবরণ লিখে রাখতে বলেছিলেন। সেই সাথে ছিল নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নও। আর জুটিগুলোর যোগাযোগের বিবরণ ও প্রশ্নের উত্তর পর্যালোচনা করেই গবেষকরা দেখতে পান যে যারা তুলনামূলক দূরে থাকেন তাদের মধ্যেই বরং কাছে থাকা জুটির চাইতে দীর্ঘস্থায়ী যোগাযোগ হয়। এ ছাড়া দূরে থাকা এই জুটিরা দেখা হওয়ার পর একসঙ্গে অনেক বেশি মাত্রায় ‘মানসম্পন্ন সময়’ কাটান। সবসময় দেখা হয় না বলে দূরে থাকা জুটিদের মধ্যে চিন্তাভাবনা ও আবেগের প্রকাশ বেশি দেখা যায় এবং এর ফলে তাদের সম্পর্কও কাছে থাকা জুটিদের চাইতে অনেক বেশি মজবুত ভিত্তি পায়। আবার যারা কাছে থাকে তারা প্রতিদিন একে অপরের সান্নিধ্যে থাকার কারণে যে আবেগগুলো আলাদা করে প্রকাশ করার প্রয়োজন বোধ করেন না দূরে থাকা জুটিরা সেই আবেগগুলোও উঠিয়ে আনেন ভিডিও চ্যাট, এসএমএস বা ইমেইলের মাধ্যমে। এভাবে দূরত্ব কেন মানুষকে সম্পর্কগত দিক থেকে আরও কাছে টানে তার কারণ ব্যাখ্যা করতে যেয়ে গবেষক জিয়াং বলেন, ‘খুব সম্ভবত নিজেদের মধ্যে থাকা ভৌগলিক দূরত্বকে আবেগ ও ভালোবাসা দিয়ে অতিক্রমের যে প্রচেষ্টা সেই প্রচেষ্টাই দূরে থাকা জুটিগুলোকে আরও মজবুত বন্ধনে বাঁধা পড়ার সুযোগ করে দেয়।’
