ই-টিআইএন নিবন্ধনে সাড়া মিলছে, রয়েছে বিপত্তিও

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২১:০৮
সদ্য চালু হওয়া অনলাইনে কর সনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিবন্ধনে করদাতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত একমাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই পদ্ধতিটি চালু করে। ইতিমধ্যে এই পদ্ধতিতে ৮৩ হাজার ২৬২ জন করদাতা টিআইএন নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে নতুন নিবন্ধন করেছেন ২৬ হাজার ৯৪০ জন ও বিদ্যমান করদাতারা পুনঃনিবন্ধনকারীর সংখ্যা ৫৬ হাজার ৩২২। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বিদ্যমান টিআইএনধারীদেরও ই-টিআইএন ব্যবস্থায় পুনঃনিবন্ধন করতে হবে। এই অবস্থায় এক মাসের মধ্যে প্রায় ১ লাখ লোকের নতুন পদ্ধতিতে টিআইএন সংগ্রহ করা বা পুনঃনিবন্ধন করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর অণুবিভাগ। তবে টিআইএন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অনলাইন ভিত্তিক এই পদ্ধতিতে বিপত্তিতেও পড়েছেন করদাতারা। মোটা দাগে দুটি অভিযোগ এনবিআরে জমা হচ্ছে। যেসব করদাতার বর্তমানে টিআইন রয়েছে তাদের পুনঃনিবন্ধন করতে হবে। কিন্তু কেউ যদি ভুলক্রমে নতুনভাবে টিআইএন নিবন্ধন করে থাকেন তা আর সংশোধনের সুযোগ নেই। আবার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সাথে সামঞ্জস্য না থাকলে তারাও টিআইএন নিবন্ধন করতে পারছেন না। এনবিআরে এখন পর্যন্ত ই-মেইলে এরকম প্রায় দেড় হাজার অভিযোগ এসেছে। জানা গেছে, অনলাইনে টিআইএন গ্রহণ ও পুনঃনিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ভুল সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়নি। তবে এসব ভুল সংশোধনের উপায় বের করার চিন্তা করছে এনবিআরের এ বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ঈদের পর এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উপায় বের করা হবে। সেক্ষেত্রে ভুল সংশোধনের ব্যবস্থাও রাখা হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র নেয়া ও ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেয়ার কথাও চিন্তা করছে এনবিআর। ইত্তেফাকের সাথে আলাপকালে এনবিআর প্রথম সচিব ও ই-টিআইএন কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খুরশিদ কামাল বলেন, এই প্রক্রিয়াটি যেহেতু বাংলাদেশে একেবারেই নতুন সেজন্য কিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে ঈদের পর এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে আরো একধাপ এগিয়ে জাতীয় তথ্য ভাণ্ডারে সংযুক্ত করা হবে। এনবিআর সদস্য (আয়কর নীতি) সৈয়দ আমিনুল করীম বলেন, ই-টিআইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে করদাতাদের হয়রানি থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য। এতে করদাতার সময়, অর্থ -দুটোই সাশ্রয় হবে। ঘরে বসেই নিজের টিআইএন নিবন্ধন করতে পারবেন। কারো কাছে ধর্ণা দিতে হবে না। তবে নতুন এই ব্যবস্থায় টিআইএনে নিবন্ধনে করতে আসা করদাতারা বিপত্তিতে পড়ছেন এমনটি স্বীকার করে তিনি বলেন, এটি একটি বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম। যে কোন সংস্কার কার্যক্রমে একদল মানুষকে বিপত্তি স্বীকার করতে হয়। এই সমস্যা অচিরেই সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ৩৬ লাখ টিআইএনধারী আছেন। এদের অন্তত অর্ধেকই ভুয়া অথবা কার্যকর নয়। গতবছর মাত্র ১৩ লাখ আয়কর রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে। অর্থাত্ এই সংখ্যক করদাতারা ন্যূনতম পরিমাণে হলেও কর দিয়েছেন। বাকি টিআইএনধারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছেন। নতুন এই পদ্ধতিতে যে কেউ টিআইএন নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনে রক্ষিত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ভাণ্ডার ব্যবহার করে। অর্থাত্ এই প্রক্রিয়ার ভুয়া টিআইএন নেয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে কোম্পানির ক্ষেত্রেও নতুন টিআইএন নিবন্ধন করতে হবে। যাদের টিআইএন আছে তাদের ক্ষেত্রে পুনঃনিবন্ধন করতে হবে। এক্ষেত্রে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) রক্ষিত তথ্য ভাণ্ডার ব্যবহার করা হবে। পুরোনো টিআইএনধারীদের ১০ অঙ্কবিশিষ্ট টিআইএন রয়েছে। পুনঃনিবন্ধনের পর নতুন ১২ অঙ্কবিশিষ্ট টিআইএন নম্বর প্রদান করা হয়। অনলাইনে টিআইএন নিতে হলে ইচ্ছুকদের www.incometax.gov.bd এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। তারপর হোমপেজের ‘রেজিস্টার’ বাটনে ক্লিক করে প্রথমে নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে হবে। এ সময় ইচ্ছুক টিআইএনধারীর মোবাইল ফোনে একটি কোড আসবে। এরপর পেজের ‘ডায়ালগ’ বক্সে কোডটি বসিয়ে ‘অ্যাকটিভ’ বাটনে ক্লিক করলেই নতুন টিআইএন পেজ স্ক্রিনে দৃশ্যমান হবে। এরপর পেজের ফরমটি একে একে নির্দেশনা অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের দেয়া তথ্যসমূহ স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের দেয়া তথ্যের সাথে গরমিল থাকলে নতুন টিআইএনের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আর যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তাদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছবি সন্নিবেশিত করতে হবে। আর পুরোনো টিআইএনধারীদের পুনঃনিবন্ধনের ক্ষেত্রে একই উপায়ে ফরম পূরণ করতে হবে। সর্বশেষ অনলাইনে আবেদনপত্রটি জমা দেয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে টিআইএন সনদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। পরে তা প্রিন্ট নিতে হবে এবং সংরক্ষণ করতে হবে। এভাবে মাত্র কয়েক মিনিটেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘরে বসেই টিআইএন পাওয়া যাবে। আর কোম্পানি টিআইএনের ক্ষেত্রে আরজেএসসির নিবন্ধন থাকতে হবে।