বিশ্বের এক নম্বর তারকা নোভাক জোকোভিচকে পরাজিত করে মন্ট্রিয়াল মাস্টার্সের ফাইনালে উঠেছেন রাফায়েল নাদাল। ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিফাইনালের পর এনিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোন টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে জোকোভিচকে হারালেন নাদাল। শিরোপার লড়াইয়ে আজ নাদালের প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ কানাডার মিলোস রায়োনিক।
শেষ বার যখন দু’জন মুখোমুখি হয়েছিলেন সেটা ছিল রোলা গ্যারোর সেমিফাইনাল। পাঁচ সেটের মহাকাব্যিক এক লড়াই শেষে সেই লড়াইয়ে জয় পেয়েছিলেন নাদালই। পরে শিরোপা জিতে ওপেন যুগের প্রথম পুরুষ হিসেবে কোন গ্র্যান্ড স্ল্যামে অষ্টম শিরোপা জেতার রেকর্ডও গড়েন তিনি। সেই লড়াইয়ের সাথে তুলনা না চললেও উত্তেজনা কম ছিল না গতকালও। দুই ঘন্টা ২০ মিনিটের দারুণ লড়াই শেষে সে লড়াইয়ে জয় পান টুর্নামেন্টের চতুর্থ বাছাই এবং ২০০৫ ও ২০০৮ সালের চ্যাম্পিয়ন নাদালই। ম্যাচের ফলাফল ছিল ৬-৪, ৩-৬, ৭-৬ (৭/২)।
প্রথম দুটি সেট দু’জনে ভাগাভাগি করার পর শেষ সেটটি হয়ে ওঠে ফল নির্ধারক। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে সেটটি টাইব্রেকারে গড়ালে সেখানে ৬-০ গেমে এগিয়ে যান নাদাল। দুটি ম্যাচ পয়েন্ট রক্ষা করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত আর এই ব্যবধান ঘোচাতে পারেননি সার্বিয়ান তারকা জোকোভিচ। এ মৌসুমে নিজের দশম ফাইনাল নিশ্চিত করার পর নাদাল ছিলেন দারুণ উচ্ছ্বসিত। ২৯ বছর বয়সী এই স্প্যানিয়ার্ড বলেন, ‘টাইব্রেকারে আমি আমার সর্বোচ্চ দেবার চেষ্টা করেছি। জোকোভিচের মত বড় খেলোয়াড়ের বিপক্ষে ভাল কিছু করার জন্য আমার অসাধারণ কিছু শট খেলার প্রয়োজন ছিল। সেটা করতে পেরে সত্যিই আমি বেশ সন্তুষ্ট।’
এ বছর এখনো পর্যন্ত একটি মাত্র গ্র্যান্ডস্ল্যাম জেতা জোকোভিচের বিপক্ষে এই নিয়ে চলতি বছরে তিনবারের মোকাবেলায় দ্বিতীয় জয় পেলেন নাদাল। এর মধ্যে আছে ফ্রেঞ্চ ওপেনের সেমিফাইনালে পাঁচ সেটের উত্তেজনাকর সেই ম্যাচটি উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে এই হারের মধ্য দিয়ে কানাডায় টানা ১৩ ম্যাচ পরে হারের তিক্ত স্বাদ পেলেন জোকোভিচ। ২০১১ এবং ২০১২ সালে পরপর দুই বছর শিরোপা জয়ের আগে ২০০৭ সালেও তিনি মন্ট্রিয়াল মাস্টার্সের শিরোপা জিতেছিলেন।
এদিকে অপর সেমিফাইনালে রায়োনিক স্বদেশী ভাসেক পোসপিসিলকে পরাজিত করেন ৬-৪, ১-৬, ৭-৬ (৭/৪)। তবে ১৯৫৮ সালের পরে প্রথম কোন কানাডিয়ান হিসেবে এই টুর্নামেন্টে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। আর এই জয়ের ফলে প্রথম কোন কানাডিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০ জনের মধ্যেও জায়গা করে নিয়েছেন রায়োনিক।
এর আগে রায়োনিকের বিপক্ষে খেলা তিনটি ম্যাচেই জয়ী হওয়া নাদালই ফেভারিট থাকবেন আজকের ম্যাচেও। তবে রায়োনিকের জন্য বাড়তি সুবিধা থাকবে স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থন। বাসস/এএফপি।
