সিডরে বিধ্বস্ত পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় মাছুয়া বাজার সেতুটি গত ছয় বছরেও নির্মিত না হওয়ায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় অর্ধলক্ষ মানুষ। সেতুর অভাবে পাঁচ ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগের জন্য নির্মিত তুষখালী-সাপলেজা সড়কটিতে যান চলাচল করতে পারছে না। ফলে একটি সেতুর অভাবে ২২ কিঃ মিঃ সড়কটি মানুষের কোন কাজে আসছে না।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালে ১৫ নভেম্বর সিডরে সেতুটি বিধ্বস্ত হয়। ২০১২ সালে এলজিইডি বড় মাছুয়া খালের সেতু নির্মাণের জন্য একটি নকশা করেন। নকশায় আগের ভেঙে যাওয়া সেতুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চতা তিন মিটার করা হলে স্থানীয় লোকজন বিরোধিতা করেন। গত ২৪ মার্চ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক মো. নূর হোসেন এক চিঠিতে প্রকল্প পরিচালককে জানান, বড় মাছুয়া খালের প্রস্তাবিত সেতুর উচ্চতা কমপক্ষে সাত দশমিক ছয় দুই মিটার হলে তাদের আপত্তি থাকবে না। বড় মাছুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য কবির হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সেতুটি সাত মিটার উচ্চতায় নির্মিত হলে বড় মাছুয়া বাজারের কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় একটি প্রভাবশালীমহল সেতুটি নির্মাণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সে কারণে সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে না।
বড় মাছুয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, সেতুর অভাবে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো ও খেয়া নৌকায় চলাচল করছেন। সেতুর উচ্চতা নিয়ে স্থানীয় লোকজন বিভক্ত হয়ে পড়ায় সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে না। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পিরোজপুর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল হাসান জানান, সেতুটি নির্মাণের জন্য জরিপ করে নকশা করা হয়েছিল। তবে সেতুর উচ্চতা নিয়ে সমস্যার কারণে টেন্ডার আহবান করা যাচ্ছে না।
