তিনদিনের ঈদের ছুটিতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের মধ্য চন্ডিপুর গ্রামে কলেজ ছাত্রীকে গলাটিপে হত্যা, চিংড়াখালী গ্রামে গৃহবধূর শ্লীলতাহানি ও সদর ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মোরেলগঞ্জ থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ শ্লীলতাহানি মামলার ১ জনকে আটক ও অপহূতাকে উদ্ধার করেছে।
অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলা চিংড়াখালী ইউনিয়নের মধ্য চন্ডিপুর গ্রামের ফারুক হোসেন মোল্যার কন্যা পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষ অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী আহসানারা আক্তার রুমিকে (২০) ঈদের দিন বিকেলে মারপিটের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী প্রিন্স (২৮) তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। রুমির পিতা বাদি হয়ে প্রিন্সসহ ৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ধর্ষণ চেষ্টায় ১ জন আটক
উপজেলার একই ইউনিয়নের চিংড়াখালী গ্রামে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা ও মারপিট করার অভিযোগে ১০ আগষ্ট মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের ও পুলিশ ধর্ষণের চেষ্টাকারী জাহাঙ্গীর শেখকে গ্রেফতার করেছে। গ্রামের কবির শেখ জীবিকার প্রয়োজনে শহরে অবস্থান করার সুযোগে তার স্ত্রীকে (৩৮) প্রতিবেশী চাচাতো দেবর জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫) কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তিনি বিষয়টি স্বামী ও স্বজনদের অবহিত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় জাহাঙ্গীর শেখ। ঘটনার দিন ৯ আগষ্ট বিকেলে জাহাঙ্গীর শেখ ঘরে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এতে ব্যর্থ হয়ে তাকে বেধড়ক মারপিট করে আহত করে। গৃহবধূ বাদি হয়ে জাহাঙ্গীর শেখকে আসামি করে মোরেলগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের খবর জানাতে পেরে আসামিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ঐদিনই রাতে গৃহবধূকে পুত্র রনি শেখকে মারপিট করে আহত করে এবং তাদের একটি গর্ভবতী গাভীকে পিটিয়ে গর্ভপাত ঘটায়। মারপিটে গুরুতর আহত রনি শেখকে মোরেলগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মোরেলগঞ্জ থানায় অপর একটি মামলা হয়েছে।
অপহূত তরুণী উদ্ধার
মোরেলগঞ্জ সদর উপজেলার ভাইজোড়া গ্রামের ছালাম হাওলাদারের অপহূত কন্যা নাজমুন নাহার সাথীকে (১৯) ১০ আগষ্ট উদ্ধার করেছে মেহেরপুর থানা পুলিশ। একই গ্রামের জয়নাল ওরফে জনু মল্লিকের পুত্র সোহাগ মল্লিক অপহরণ করে। মোরেলগঞ্জ থানায় অপহরণের মামলা দায়ের করেছে পিতা ছালাম হাওলাদার।
