পর্যটক-মুখরিত কমলগঞ্জে লাউয়াছড়ায় বাড়তি চাপ

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২২:২০
ঈদের আনন্দ উপভোগে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত ও চা বাগানসহ বিভিন্ন পর্যটনসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক স্থান উপভোগ করতে পর্যটকদের এখন উপচেপড়া ভিড়। পর্যটকদের অত্যধিক চাপ, হৈ চৈ মাইকের উচ্চ শব্দ আর যানবাহনের চাপে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের শান্ত নিবিড় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। ঈদের ছুটিতে কমলগঞ্জ উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে হাজারো পর্যটকদের ঢল নামে। ঈদের দিন শুক্রবার বিকাল থেকে ঈদের পরদিন শনিবার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অস্বাভাবিকভাবে পর্যটকদের ভিড় দেখা দেয়। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেকে হাজারো পর্যটকের উপস্থিতি মুখরিত হয়ে উঠে দর্শনীয় স্থান। স্থানীয় ও বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকদের সবচেয়ে ভিড় জাতীয় উদ্যান লাউয়াছড়ায়। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক প্রাকৃতিক সোন্দর্য উপভোগে ছুটে আসেন। জাতীয় উদ্যানের প্রবেশপথের সামনে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল প্রধান সড়কের দুইদিকে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয় এবং যানজটেরও সৃষ্টি হয়। কাউন্টার থেকে প্রবেশ মূল্য দিয়ে টিকেট সংগ্রহেও ছিল দীর্ঘ লাইন। পর্যটকদের একটি বড় অংশ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে যেন বনভোজন করতে এসেছেন। অসংখ্য যানবাহনে ছিল মাইক লাগানো। মাইকে উচ্চেস্বরে গান বাজানোতে জাতীয় উদ্যানের শান্ত সু-নিবিড় পরিবেশ বড় শহরের মত কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে পরিণত হয়। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ঈদের দিন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ২৮৪১ জন পর্যটক প্রবেশমূল্য দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৫৮ হাজার ৭৭০ টাকা। ঈদের পরদিন শনিবার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে মোট ৩ হাজার ১৭ জন পর্যটকদের আগমন হয়। গাড়ি পার্কিং হয়েছে ১২৪টি। রাজস্ব আয় হয়েছে ৬৬ হাজার ৮৪০ টাকা। ঈদের পরদিন শনিবার মিলিয়ে দুইদিনে প্রায় ৭ হাজার পর্যটক লাউয়াছড়ায় বেড়াতে আসেন। আর এসব পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে হিমশিম দশা হচ্ছে পুলিশের। গতকাল রবিবারও পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, কমলগঞ্জের ভারত সীমান্তবর্তী হামহাম জলপ্রপাত, ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি অনেকেই দেখতে ছুটে আসেন।