দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এবার ঈদ উদযাপন হয়েছে এক ভিন্ন পরিবেশে। একদিকে ছিল ঈদের আমেজ আর অন্যদিকে ছিল নির্বাচনী প্রস্তুতির হরেক রকমের তত্পরতা। দক্ষিণের এ অঞ্চলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে প্রত্যাশা করেন এমন প্রার্থীদের স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। তারা সবাই এবার ঈদের নামাজও আদায় করেছেন নিজ নিজ এলাকায়।
সরেজমিনে জানা গেছে, এবার ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার এলাকার বাইরে থাকা মানুষ ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসার আগে রোজার মধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন তত্পরতা শুরু করেন। এলাকার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের বাড়িতে রোজার শুরুতে তাদের পক্ষ থেকে পৌঁছে দেয়া হয় ঈদ কার্ড। একই সাথে শহর, বন্দর, হাট-বাজারই শুধু নয়—গ্রামের অলিগলিতেও দৃষ্টিনন্দন পোস্টার আর ব্যানারে ছেয়ে গেছে। এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের দলের নেতা-নেত্রীদের ছবির সঙ্গে নিজেদের ছবি সম্বলিত পোস্টার-ব্যানারে বড় বড় হরফে লিখে এলাকাবাসীকে ‘ঈদের শুভেচ্ছা’ জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ঈদের কয়েক দিন আগে থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় গিয়েছেন। এমনকি ঈদের ২-১ আগে থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও দোয়া কামনা করেছেন। আর ঈদের নামাজের পরপরই কেবল দিন নয়, রাতভরও ঘরে ফেরা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রার্থীরা করেছেন দেখা-সাক্ষাত্ ও কুশলাদি বিনিময়। অধিকাংশ প্রার্থীদের লক্ষ্য ছিল—বাইরে থেকে আসা মানুষদের এলাকা ছেড়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আগে তাদের বাড়িতে গিয়ে ঈদ উপলক্ষে অন্তত একবার দেখা করে শুভেচ্ছা ও দোয়া কামনা করা। এ সময় অনেকে তাদের ছবিসহ নাম পরিচয় উল্লেখ করে হ্যান্ডবিলও বিতরণ করেছেন।
বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ঈদ উপলক্ষে আগামী সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থেকে জাকাতের অর্থ অথবা কাপড় গরিব-মিসকিনদেরকে নিজ হাতে বিতরণ করেছেন। এর আগে এগুলো তাদের নিজস্ব লোকজনকে দিয়ে বিতরণ করতে দেখা যেত। এছাড়াও এলাকার গণ্যমান্য অনেকের বাড়িতে নানা ধরনের উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেয়ারও খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিকালে এ অঞ্চলের নেতৃস্থানীয় রাজনীতিকদের আচার-আচরণেও বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এলাকার কেউ কোন সমস্যার বিষয় নিয়ে গেলে সেগুলো তারা বেশ সহানুভূতির সঙ্গে দেখছেন। যাকে যেভাবে পারা যায় তারা সেই সমস্যাটির সমাধান করে দিচ্ছেন কিংবা তাকে কোন ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে সেটা সমাধানের চেষ্টা করছেন। একইভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহীরা এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন।
অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঈদ করতে বাড়িতে আসা মানুষদের সাথে আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশীর এবার আলাপ-আলোচনার প্রধান বিষয়ই হয়ে ওঠে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রসঙ্গ। ‘সামনে কি হবে ভাই, নির্বাচন কি হচ্ছে, সরকার কি বিধি মোতাবেক নির্বাচন করবে নাকি বিরোধী দলের দাবিতে কিছুটা ছাড় দেবে’ ইত্যাদি নানান কৌতূহলী প্রশ্ন ছিল তাদের কাছে এলাকাবাসীর। একইভাবে এলাকাবাসীর কাছেও ঘরে ফেরা মানুষের অনেক প্রশ্ন ছিল। ‘এবার সংসদ নির্বাচনে কে কোন দল থেকে প্রার্থী হতে পারে, তাদের মধ্যে এলাকায় কার অবস্থা কেমন, কে পাশ করতে পারে না পারে’—এমন অনেক জিজ্ঞাসা। তবে স্থানীয়রা এলাকায় ফেরা মানুষদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলেও তারা কেউ এলাকার মানুষের প্রশ্নের সঠিক কোন জবাব দিতে পারেননি। এভাবেই এবার দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় ঈদ কেটেছে একটু ভিন্ন আমেজ আর পরিবেশে।
