আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাবনার পাঁচটি নির্বাচনী এলাকায় আগাম প্রচারণা শুরু হয়েছে। উজ্জীবিত এখন আওয়ামী লীগ-বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তারা নানা কৌশলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য নিজেদের নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। সভা, সমাবেশ, ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়, দান-খয়রাত, সংবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতার কথা মানুষকে জানান দিচ্ছেন। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন পেতে তারা দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লবিং অব্যাহত রেখেছেন।
পাবনার পাঁচটি আসনেই এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকা বেশ দীর্ঘ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে এমপি প্রার্থী হিসেবে একাধিক নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, সড়কের মোড়ে, বিদ্যুতের খুঁটিতে এলাকাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ডিজিটাল ব্যানার (প্যানাফ্লেকস), শুভেচ্ছা পোস্টার লাগিয়েছেন। এর বাইরেও অনেকের নাম দলীয় নেতাকর্মীদের আলোচনায় উঠে আসছে। পাবনা-১ (বেড়া উপজেলার আংশিক ও সাঁথিয়া উপজেলা) : এই আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। বিএনপি থেকে মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের, সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামসুর রহমান, ট্রাইব্যুনালে সাজা না হলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা কারাগারে আটক মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আর সাজা হলে নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব উল্লাহ মমিন প্রার্থী হতে পারেন।
পাবনা-২ (সুজানগর উপজেলা ও বেড়া উপজেলার আংশিক) : আওয়ামী লীগ থেকে পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) একে খন্দকার, তিনি প্রার্থী না হলে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল মৃধা, বিএনপি থেকে জেলা বিএনপি নেতা সেলিম রেজা হাবীব, কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হালিম সাজ্জাদ ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি আবু ওবায়দা শেখ তুহিন প্রার্থী হতে পারেন।
পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) : এ আসনে যাদের নাম আলোচনায় আসছে তারা হলেন আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন, সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ মাস্টার, জাতিসংঘের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মুক্তিযোদ্ধা আ ন ম মেজবাহুর রহমান রোজ, চাটমোহর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সামসুদ্দিন খবির, ভাঙ্গুড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. বাকিবিল্লাহ প্রমুখ। বিএনপি থেকে সাবেক এমপি ও চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, শিল্পপতি হাসানুল ইসলাম রাজা, বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) ফখরুল আযম রনী, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও পাবনা বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রবিউল করিম রবির নাম আলোচনায় আসছে। জাপা (এ) থেকে জেলা জাপা’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার প্রার্থী হতে পারেন।
পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) : আওয়ামী লীগ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন, বিএনপি থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরদার, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি সামসুদ্দিন মালিথা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী আবু তালেব মন্ডল এবং জাপা (এ) থেকে জেলা জাপার সভাপতি হায়দার আলীর নাম শোনা যাচ্ছে।
পাবনা-৫ (পাবনা সদর) : আওয়ামী লীগ থেকে এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, বিএনপি থেকে বিএনপির চেয়ারপার্সনের ব্যক্তিগত সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, জামায়াত নেতা কারাগারে আটক মাওলানা আব্দুস সুবহান (ট্রাইব্যুনালে সাজা না হলে), সাজা হলে তার ছেলে নেছার আহম্মেদ নান্নু, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহিম ও পাবনা পৌর মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন।
