ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি একে আজাদের গাড়ি বহরে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুর পৌরভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় ফরিদপুর চরাঞ্চলবাসী একে আজাদকে সংবর্ধনা দেয়ার আয়োজন করে। একে আজাদ ঝিলটুলিস্থ নিজ বাসভবন থেকে মোটর সাইকেল শোভাযাত্রাসহ টেপাখোলা লেকপাড়ের অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে এই হামলা করে পুলিশ।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয় বসাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পুলিশের অনুমতি ছাড়াই সংবর্ধনা আয়োজকরা মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা বের করে। এতে শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শহরের চরটেপাখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে একে আজাদের সংবর্ধনা ছিল। সকাল দশটার দিকে বিশাল মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা বের করে একে আজাদের সমর্থকরা। এ সময় পুলিশ মুজির সড়কে পৌরভবনের সামনে প্রথমে গাড়িবহর থামিয়ে দেয়। এসময় একে আজাদ গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের কাছে তার সমর্থকদের বাধা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে পৌনে ১১টার দিকে একে আজাদ সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছেন। হাজী এবিএফ আহমদ মাস্টারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন একে আজাদ। একে আজাদ পুলিশের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, আমি তো এখানে রাজনীতি করার জন্য আসিনি, তাহলে আমার উপর হামলা কেন? তিনি বলেন, এই হামলা আমার উপরে না, ফরিদপুরের সকল মানুষের উপর হামলা করেছে পুলিশ। চরবাসী আমাকে সংবর্ধনা দিচ্ছে, কামাল ভাই (বিএনপি নেতা সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ) আমাকে ফুল পাঠালো আর আমার ভাই (প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন) পুলিশ দিয়ে নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরালো। এ সময় তিনি ফরিদপুরের সুশীল সমাজসহ ফরিদপুরবাসীর কাছে এই ঘটনার বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দীকি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শামসুল হক ভোলা মাস্টার, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান খোকন, কোতোয়ালী আওয়ামী লীগের সভাপতি অমিতাভ বোস, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আওলাদ হোসেন বাবরসহ ফরিদপুরে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
