যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত গত শুক্রবার বাংলাদেশি তরুণ কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল নাফিসকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টার দায়ে নাফিসকে গত বছর অক্টোবর মাসে গ্রেফতার করা হয়। নাফিসকে কারাদণ্ড দিয়ে আদালত বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সাজা খাটার পর নাফিসকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পর নাফিস যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন তাকে মার্কিন ও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে কাটাতে হবে।
নাফিসের আইনজীবী তার বয়স বিবেচনায় নিয়ে সাজার মেয়াদ ২০ বছর করার যে আবেদন জানিয়েছিলেন আদালত তা আমলে নেয়নি। ৩১ জুলাই নাফিস নিউইয়র্ক ফেডারেল কোর্টের বিচারকের কাছে একটি চিঠি লেখেন যাতে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তার প্রেমিকা তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। সে সময় আত্মহত্যা করতে চাইলেও ইসলামে আত্মহত্যা নিষিদ্ধ বলে তিনি সে পথে যেতে পারেননি। তাই তিনি বড়ধরনের জঙ্গি তত্পরতা চালিয়ে নিজের প্রাণনাশের চেষ্টা করছিলেন। ঢাকায় যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়তেন সেখানে তার অনেক মুসলিম সহপাঠী উগ্রপন্থি ছিলেন এবং তারা তাকে প্রভাবিত করেছে। কাজী নাফিসের মা ছেলের মুক্তির আবেদন করে আদালতের কাছে একটি চিঠিও লিখেছিলেন যেটি তার আইনজীবী আদালতে পেশ করেন।
রায় ঘোষণার আগে বিচারক নাফিসকে জিজ্ঞেস করেন তার কিছু বলার আছে কিনা। উত্তরে নাফিস আদালতের সামনে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে কাজী নাফিসের আইনজীবী আপিল করবেন না কারণ দোষ স্বীকার করার সময় নাফিস তার আপিলের অধিকার হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবনটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দেবার চেষ্টার দায়ে আটক করা বাংলাদেশি যুবক কাজী নাফিসকে আদালতে তোলা হয় অক্টোবর মাসে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ওই গুরুত্বপূর্ণ ভবনটি উড়িয়ে দেবার চেষ্টা করছিলেন। তবে তিনি বিস্ফোরক ভেবে যা ব্যবহার করেছিলেন তা আসলে ছিল নকল এবং এফবিআইএ’র ছদ্মবেশী এজেন্টরাই তার সহযোগী সেজে ওই ভুয়া বোমাটি তাকে তৈরি করে দিয়েছিলেন। নাফিস তার অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন এ বছর ৭ ফেব্রুয়ারি। ঢাকায় নাফিসের বাবা কাজী আহসানউল্লাকে ফোন করলে তিনি এ খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
