ময়ের সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপকেও টেক্কা দিয়ে যাচ্ছে ট্যাবলেট পিসি। আগামী দিনেও ট্যাবলেট পিসি বিক্রির এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। আর তারই প্রমাণ মিলল সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। প্রযুক্তি এবং বাজার গবেষণা সংস্থা ফরেস্টার সম্প্রতি এই গবেষণায় জানিয়েছে, আসছে ২০০৭ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রতি ৮ জনে ১ জন ব্যবহার করবে ট্যাবলেট পিসি। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে এই ট্যাবলেট পিসিই পরিণত হবে মূল ধারার প্রযুক্তি পণ্যে। সেটা কেবল ব্যক্তিগত ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ছড়িয়ে পড়বে ব্যবসাক্ষেত্রেও। ফরেস্টারের এই গবেষণা অনুযায়ী ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যাবলেট পিসি ব্যবহারকারীর মোট পরিমাণ হবে ৯০৫ মিলিয়ন, যেখানে ২০১০ সালে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ১৫ মিলিয়ন। সেই হিসেবে ট্যাবলেট পিসিই সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল পণ্যের মধ্যে অন্যতম। অনলাইন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী গড়ে ৪২ শতাংশ মানুষের হাতেই থাকবে ট্যাবলেট পিসি। তুলনামূলক বিচারে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ৬০ শতাংশ। উন্নয়নশীল দেশগুলো ট্যাবলেট পিসি ব্যবহারে অনেকটাই পিছিয়ে থাকবে তখনও। তারপরেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ট্যাবলেট পিসি ব্যবহারের শতকরা পরিমাণ হবে ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে আবার গত বছরে (২০১২) যেখানে ট্যাবলেট পিসি বিক্রি হয়েছিল ১২২ মিলিয়ন, সেখানে ২০১৭ সালে ট্যাবলেট পিসি বিক্রির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৮১ মিলিয়ন। ক্রেতাদের ক্ষেত্রে নতুন গ্রাহকদের পাশাপাশি পুরোনো গ্রাহকরাও নতুন মডেলের প্রতি আকৃষ্ট হবেন। আবার ট্যাবলেট পিসির ক্রেতার দিক থেকে বেশিরভাগই ব্যক্তিগত পর্যায়ের হলেও এন্টারপ্রাইজ পর্যায়ে এর পরিমাণ ২০১৭ সাল নাগাদ বেড়ে দাঁড়াবে ১৮ শতাংশ। ব্যবহারের দিক থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিত্সাসহ বাণিজ্যিক কাজেও এর ব্যবহার বাড়বে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। ট্যাবলেট পিসির বাজাওে ব্র্যান্ড এবং অপারেটিং সিস্টেম অবশ্য এই গবেষণার আওতায় ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ের প্রবণতা অনুযায়ী ট্যাবলেট পিসির বাজারের সবচেয়ে বড় অংশটিই দখল করে রাখবে অ্যান্ড্রয়েড। দ্বিতীয় স্থানটিও অ্যাপল আরও কয়েকবছর ধরে রাখবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
