এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটির সঙ্গে হরতাল, ১৫ আগস্ট ও পরের দু’দিন সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মহানগরীর বিনোদন স্পটগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত শুক্রবার ঈদের দিন সকাল থেকেই বিনোদন নগরীর এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, বড়কুঠি পার্ক, জিয়া শিশু পার্ক, পদ্মা গার্ডেন, ভদ্রা পার্ক, টি-গ্রোয়েন এলাকা, শিমলা পার্ক, পুরাতন জিপিও সংলগ্ন আই বাঁধ, আলুপট্টি ও পঞ্চবটি শ্মশানঘাট সংলগ্ন আই বাঁধ, মতিহারের সবুজ চত্বর সর্বত্রই মানুষের উপচেপড়া ভিড়। দুপুরের পর থেকে রাত ৮/৯টা পর্যন্ত ভিড় থাকছে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে রাজশাহীর পদ্মার ধার এখন যেন বিনোদন পিয়াসী মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। অনেকে বৃষ্টির মধ্যেই আসছেন বিনোদন স্পটগুলোতে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত পুরো সপ্তাহ জুড়েই মানুষের ভিড় অব্যাহত থাকবে। ঈদ উপলক্ষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন বিনোদন স্পটগুলো বিভিন্নভাবে সাজিয়ে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ প্রশাসন। এসব বিনোদন স্পটে কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসছেন। অনেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে পদ্মায় ভ্রমণ করেছেন। আবার কেউবা পদ্মার চরে যাচ্ছেন বেড়াতে। টানা ছুটিতে পুরো পদ্মার পাড় জুড়ে থাকছে বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড়। কেন্দ্রীয় উদ্যানে অনেকেই গ্রাম থেকে বেড়াতে এসেছেন। কেউবা দল বেঁধে অটোরিক্সা, ভটভটি, মিশুক, বেবি ট্যাক্সি ভাড়া করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রিক্সার কদরও বেড়েছে যথেষ্ট। তবে ভাড়া দিতে হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি। কেন্দ্রীয় উদ্যানের আধুনিকায়ন হওয়ায় এখানে বিনোদন পিয়াসী মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। এই সুযোগে নগরীর বিনোদন স্পটগুলোতে ভ্রাম্যমাণ দোকানপাটও জেঁকে বসেছে। অনেকে নদীর পাড়ের ভ্রাম্যমাণ দোকানে চটপটি, ফুচকা খাচ্ছেন। নদীর ধারে লাউড স্পিকারে গান বাজিয়ে কেউ কেউ উল্লাস করছেন। কিশোর ও যুবক মিনিট্রাক ও পিকআপে করে বাদ্য-বাজনা বাজিয়ে উল্লাস করতে করতে নগরী প্রদক্ষিণ করছে। সন্ধ্যায় নগরীর ফাস্টফুডের দোকানগুলোতেও ব্যাপক ভিড়। তবে অনেকে বাসায় বসে ছোট পর্দায় ঈদ বিনোদন উপভোগ করেছেন। আবার কেউবা নগরীর একমাত্র প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখতে যাচ্ছেন।
