বাঁশখালীর পাহাড়ে আবারো আগুন লাগালো বনকর্মীরা

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩৬
পাহাড়ে আগুন দেয়া নিষিদ্ধ হলেও বাঁশখালীতে খোদ বন রক্ষকদের দেয়া আগুনে পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকার ব্যক্তি মালিকানাধীন অনেক পাহাড়ে ফসলী জমি, পানবরজ, গাছপালা পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শত শত কৃষকের স্বপ্নও ধুলিসাত্ হয়ে গেছে। অভিযোগে জানা যায়, গাছ লাগানোর জন্য আগাছা পরিষ্কারের নামে পবিত্র ঈদের আগের দিন ৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে বন বিভাগের লোকজন আগুন দিয়ে পাহাড়ের গাছ-গাছালিসহ কয়েকশত প্রান্তিক কৃষকের পানের বরজ ও ফসল পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে অর্ধ কোটি টাকার। এর আগে গত ১৭ মে ও ১৯ জুন একই এলাকায় বন বিভাগের লোকজন আগুন দিয়ে ৩ একর পাহাড়ের ৭টি বাগান পুড়িয়ে দিলে বাঁশখালী আদালতে মামলা করেছিল ক্ষতিগ্রস্তরা। সে সময় আদালত বন বিট কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিলেও মাত্র ২ মাসের ব্যবধানে একই এলাকায় আবারো আগুন দিল বন বিভাগ। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাব্বির ইকবাল ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান চৌধুরী এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বন কর্মীদের প্রতি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন। এদিকে ঘটনার বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পক্ষে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের জঙ্গল কালীপুর এলাকায় মোক্তার আহমদের ছেলে আবদুল মজিদের ব্যক্তি মালিকানাধীন ৪০ শতক জায়গার উপর একই এলাকার ওমর আলীর ছেলে নেছার আহমদ প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ব্যাংক লোন ও দাদন নিয়ে পানের বরজ লাগান। ৩ মাস পূর্বে লাগানো পানের বরজ চলতি সপ্তাহে উত্পাদনে যাওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বন বিভাগের লোকজন পাহাড়ে আগুন দিলে তার পানবরজ পুড়ে যায়। বর্তমানে তার পথে বসা ছাড়া কোন উপায় নেই বলে জানান এলাকার মানুষ। এর আগে কালীপুরের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হক, তার স্ত্রী সাকেরা বেগম, হাজী নাছির আলীর ছেলে আবদুর রহমান, নাজির আলীর ছেলে নূরুল আলমসহ বেশ কয়েকজন প্রান্তিক চাষীর বাগান আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল বন কর্মীরা। এনিয়ে জায়গার মালিকগণ বন বিভাগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে বাঁশখালী দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আরো ক্ষীপ্ত হয়ে বনকর্মীরা ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগানে পুনরায় আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন দেয়ার সময় এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক ক্যাডার ছাড়াও খোদ কালীপুর বন বিট কর্মকর্তা মনসুর ও ফরেস্টাররা উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে কৃষক নেছার আহমদ জানান, আমি ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়ি জায়গা বর্গা নিয়ে ব্যাংক লোন ও দাদন নিয়ে পানের বরজ করেছি। ৩ মাস আগে লাগানে বরজ থেকে কয়েকদিনের মধ্যেই পান তোলার কথা ছিল। কিন্তু বন বিভাগের লোকজন আগাছা পরিষ্কারের নামে পাহাড়ে আগুন দিয়ে আমার পুরো বরজসহ জমির ফসল, পানের বরজ ও গাছ গাছালী জ্বালিয়ে দিয়েছে। এতে তার ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। বন বিভাগের কালীপুর বিট কর্মকর্তা মনসুর আহমদ মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন-সামাজিক বনায়নের বাগান সৃষ্টি করতেই এই আগুন দেয়া হয়। তবে সরকারিভাবে আগুন দেয়ার ব্যাপারে বিধিনিষেধ থাকা এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগানে আগুন দেয়া হল কেন জানতে চাইলে তিনি কোন জবাব দিতে পারেননি।