ভ্যানচালক থেকে কোটিপতি

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩৭
কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে নার্সারি ব্যবসা করে কোটপতি হয়েছেন একজন ভ্যান চালক। তিনি এখন স্থানীয় নার্সারি ব্যবসায়ীদের আইকন। তিনি বনলতা নার্সারির মলিক মো. নূর ইসলাম। ১৯৯৫ সালের কথা। নূর ইসলাম তখন লোকের বাড়িতে কামলা খাটতেন। কাজ না থাকলে চালাতেন রিক্সা ভ্যান। মৌসুমে বিক্রি করতেন আইসক্রিম। সে সময় তার বাড়ি ছিল কুমারখালির জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে। তার ভগ্নিপতি শমসের পেয়ারার চারা তৈরি করতেন। মাঝে মাঝে নূরকে দিয়ে ভ্যানে করে বিক্রি করাতেন। ভগ্নিপতির পেয়ারার চারা নিজ ভ্যানে বিক্রি করতে করতে একসময় মনে হয় তিনিও নার্সারি করতে পারেন। নূর স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে পাশের গ্রামের রেনু মিয়ার ২ বিঘা জমি ৬ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে শুরু করেন নার্সারি। প্রথমে আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা, মেহগনি ও শিশু গাছের চারা তৈরি শুরু করেন। প্রথম বছরেই অভাবনীয় সাড়া পান চারা বিক্রিতে। পরের বছর আরো কিছু জমি লিজ নিয়ে নার্সারির পরিধি বৃদ্ধি করেন। বর্তমানে তিনি সদকী ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামে জমি কিনে বাড়ি করেছেন। নিজ বাড়িতে আছে বিভিন্ন জাতের ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা, আছে আম বাগান ও বড় বড় আকাশ মনি গাছ। বর্তমানে ৬ বিঘা জমিতে তার নার্সারি। সেখানে পাওয়া যায় আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, জামরুল কদবেল, জলপাই, আমরা, করমচা, কামরাঙা, দেশি ও থাই লেবু, বাউকুল, আপেল কুল, মেহগনি, আকাশ মনি গাছের চারা। এছাড়াও তার আছে ৫ বিঘা জমিতে আমের বাগান। সেখানে আছে আম্রপালি, মল্লিকা, নেংড়া, হিমসাগর, ফজলি, হাড়িভাঙা, বারি-৪ সহ বিভিন্ন জাতের আমের গাছ। ৪ বিঘা জমিতে আছে তার মাছের চাষ। উন্নত জাতের গরুও তিনি প্রতিপালন করছেন, বাড়িতে আছে বায়োগ্যাস প্লান্ট। নূর ইসলাম জানান, বছরে তার শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ হয় প্রায় ২ লাখ টাকা। জমি লিজ বাবদ খরচ হয় ৭০ হাজার টাকা, সারসহ অন্যান্য খরচ হয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা। এরসঙ্গে নিজেদের পারিশ্রমিক ধরলে সব মিলে বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়। তিনি আয় সংক্রান্ত বিষয়ে জানান, বাষিক আয়ের মধ্যে রয়েছে গরুর দুধ বিক্রি থেকে দেড় লাখ টাকা, নার্সারিতে উত্পাদিত বিভিন্ন জাতের চারা বিক্রি বাবদ দেড় লাখ টাকা, খড়ি বিক্রি বাবদ ৮০ হাজার টাকা, মাছ বিক্রি থেকে এক লাখ টাকা, আম বিক্রি বাবদ দুই লাখ টাকা, নারিকেল বিক্রি বাবদ আয় হয় ত্রিশ হাজার টাকা। এভাবে বছরে তার আয় হয় সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা। নূর ইসলাম জানান, শূন্য থেকে শুরু করলেও বর্তমানে তার স্থাবর অস্থাবর সম্পদের মূল্য হবে প্রায় দুই কোটি টাকা।