ঈদ পুনর্মিলন নামে বিএনপি নেতারা চট্টগ্রামে আপ্যায়ন উত্সব করেছেন। অনেকের মতে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারকার আয়োজন ছিল খুবই জাঁকজমকপূর্ণ। চট্টগ্রামের প্রত্যেক সংসদীয় এলাকায় একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী কর্মী-সমর্থক এবং এলাকাবাসীকে তুষ্ট করার জন্য ব্যাপক আপ্যায়নের আয়োজন করেন। সে তুলনায় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের আয়োজন ছিল সীমিত। যদিও বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের আয়োজন ছিল জাঁকজমকপূর্ণ। চট্টগ্রামে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাদের সংসদীয় এলাকার লোকজনের জন্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আদলে ঈদ আপ্যায়নের আয়োজন করেন।
চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এম মনজুর আলম প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তার কাট্টলিস্থ বাসভবনের সম্মুখে বিশাল প্যান্ডেল টাঙ্গিয়ে ঈদের পরদিন সর্বস্তরের লোকজনের জন্য আপ্যায়নের আয়োজন করেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের আয়োজিত আপ্যায়ন অনুষ্ঠানে মূলত সংশ্লিষ্ট দলের ও এলাকার প্রাধান্য দেখা গেলেও মেয়রের আয়োজনে সকল দলের লোকজনের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয় ছিল।
নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতৃবৃন্দের এই জৌলুসপূর্ণ আপ্যায়ন অনুষ্ঠান বলে অনেকের অভিমত। তাই বিভিন্ন ওয়ার্ড ও এলাকা থেকে ছোট-বড় যানবাহনে দলবদ্ধভাবে লোকজনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রত্যেক নেতৃবৃন্দের অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিল বিগত যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। নগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মেহেদীবাগস্থ বাসভবনের সম্মুখে ঈদের পরদিন বিএনপির নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী শুধু ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন না বরং নিজ হাতে অনেককে পরোটা মাংস প্লেটে তুলে দিতে দেখা যায়। বৃষ্টির মধ্যেও প্যান্ডেলের নিচে সাজানো টেবিলে নেতাকর্মী, সমর্থকদের সমাবেশ ঘটেছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান তার ভিআইপি টাওয়ারস্থ ভিআইপি ব্যাংকুয়েটের বিশাল মিলনায়তনে কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থকদের আপ্যায়নের আয়োজন করেন। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজনের মধ্যে ছিল ৪ হাজার টাকা কেজি দামের রুপচাঁদা শুটকি। তাছাড়া ছিল পর্যাপ্ত গরুর মাংস ও মোরগের মাংস।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দির অসুস্থতার মধ্যেও কর্মী-সমর্থকদের নিরাশ করেননি। ঈদের পূর্বদিন ক্লিনিক থেকে বাসায় পৌঁছলেও অসুস্থ শরীর নিয়ে ঈদের পরদিন সার্সন রোডস্থ বাসভবন সম্মুখে কর্মী-সমর্থকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি বাসার সম্মুখে বিশাল প্যান্ডেল টাঙ্গিয়ে হরেক রকম মুখরোচক খাবার পরিবেশন করেন কর্মী-সমর্থকদের। একইভাবে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন এবং সহ-সভাপতি শিল্পপতি শামসুল আলম তাদের বাকলিয়া এলাকার বাসভবনের সম্মুখে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও ব্যাপক আপ্যায়ন আয়োজন করেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার রাউজানের গহিরাস্থ গ্রামের বাড়িতে ঈদের দিন কর্মী-সমর্থকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আপ্যায়নের আয়োজন করেন। উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক আসলাম চৌধুরীও তার সীতাকুণ্ড এলাকার বাড়িতে ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময় ও আপ্যায়ন করেন।
আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী তার আতিথেয়তা ও আপ্যায়নের ঐতিহ্য বরাবরের মত ধরে রেখেছেন। তার বাসায় গিয়ে মোটামুটি সবাইকে কিছু খেয়ে আসতে হয়। এই ট্র্যাডিশন এবারও ঈদের দিন ও ঈদের পরদিন যথারীতি লক্ষ্যণীয় ছিল। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন, এমএ লতিফ এমপি, নুরুল ইসলাম বিএসসি, সিডিএ চেয়ারম্যান আব্দুচ ছালামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাদের এলাকার লোকজনের সাথে ঈদের দিন ও পরদিন শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আপ্যায়নের আয়োজন করেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ঈদ পূর্ববর্তী রমজানের সময় শাড়ি, লুঙ্গিসহ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
