চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি বিপদ সীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় অকাল বন্যায় আউস ধানসহ ৫ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ২১৪টি পরিবার। চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে।
বন্যায় ক্ষত্রিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলো হচ্ছে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপু্র, ছত্রাজিতপুর, ঘোড়াপাখিয়া, দুর্লভপুর, মনাকষা ও শাহবাজপুর এবং সদর উপজেলার নারায়ণপুর, আলাতুলি, চর অনুপনগ, শাহজাহানপুর, দেবীনগর, ইসলামপুর, সুন্দরপুর, রানীহাটি। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মোহনপুর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খাইরুল আনাম জানান, নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৪ ও ৭নং ওয়ার্ডের ৩ হাজার বিঘা আউস ধানসহ অন্যান্য ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে এবং পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২ হাজার পরিবার। এ ছাড়া ৪৬৭ পরিবার নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে আলাতুলি ইউনিয়নের আলাতুলি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নদী ভাঙ্গনে ৭৪৭টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় তলিয়ে গেছে প্রায় ৮শ’ হেক্টর জমির আউস ধানসহ অন্যান্য ফসল। পাকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, পাকা ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৩ হাজার পরিবার। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, ৪ হাজার ৮৯০ হেক্টর আউস ধান ও ৪৫০ হেক্টর সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ জানান, পদ্মা নদীতে বিপদসীমার ৫৮ সে:মি: নিচ দিয়ে এবং মহানন্দায় বিপদসীমার ৪৫ সে:মিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মা নদীর বিপদসীমা ২২ দশমিক ৫০ ও মহানন্দা নদীর বিপদসীমা ২১ সেন্টি মিটার।
