নানা সমস্যায় জর্জরিত হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স । এ কমপ্লেক্সে চিকিত্সা সেবা নিতে আসা রোগীরা অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। জানা গেছে, হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিত্সক পোস্টিং দেয়া থাকলেও অধিকাংশ চিকিত্সক নিয়মিত হাসপাতালে কর্মরত থাকেন না। সোমবার বেলা ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটিতে মাত্র দু’জন চিকিত্সক রয়েছেন। তাদের সামনে রোগীদের লম্বা লাইন। তারা রোগীদের চিকিত্সা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ এ সময় হাসপাতালের হাজিরা খাতায় দেখা গেছে বেশ কয়েকজন ডাক্তার স্বাক্ষর করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানান, হাসপাতালে অনেক ভাল মানের ডাক্তার পোস্টিং দেয়া আছে। তারা অনেকে হাসপাতাল কোয়ার্টারে থাকলেও সকাল সাড়ে আটটায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই চলে যান। আবার সাড়ে বারোটা পৌনে একটায় এসে স্বাক্ষর করেন। আবার অনেকে ঢাকা-কুমিল্লা থেকে সপ্তাহে একবার, কেউ কেউ ১৫ দিনে ও মাসে একবার আসেন। অধিকাংশ চিকিত্সক এ হাসপাতালে পোস্টিং নিয়ে অফিস না করে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখেন। যারা হাসপাতালে কর্মরত থাকেন তাদের মধ্যে অনেকেই অফিস চলাকালীন সময়ে রোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০/২০০ টাকা ফি নেন এবং প্রয়োজন নেই এমন সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরের ক্লিনিকে পাঠান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে গাইনি ডাক্তার থাকলেও সিজারিয়ানসহ অন্য কোন অপারেশন হয় না।
জানা গেছে, এ হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা ৮০ ভাগ রোগীই দরিদ্র ও অসহায়। সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও সাব সেন্টারে গিয়ে হতদরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ স্বচক্ষে দেখা গেল। সকাল ৯টা বাজার পূর্বেই হাসপাতালে ডাক্তারদের চেম্বারের দরজার সামনে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকজনদের ও ভেতরের চেয়ারে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বসে থাকতে দেখা যায়। তারা চিকিত্সক ও রোগীদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে যে পরীক্ষাটি ৬০-৭০ টাকায় করা যায় বাইরের ক্লিনিক থেকে তা করতে রোগীদের ২০০-২৫০ টাকা দিতে হয়। এতে করে হতদরিদ্র রোগীদেরকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটিকে কার্যকর করতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন রোগীরা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ হাসপাতালে চিকিত্সক সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইউএনও মো. হেলাল হোসেন জানান, ডাক্তাররা হাসপাতালে ঠিকমত ডিউটি করেন না এমন অভিযোগ তিনিও পেয়েছেন।
