গৌরনদীতে চাল লুটের ঘটনায় ২০০ দুঃস্থের নামে মামলা

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫১
ঈদ উপলক্ষে গৌরনদীতে দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার অপরাধে দুই শতাধিক দুঃস্থের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জানা গেছে, বার্থী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান প্যাদা নিজের দোষ ধামাচাপা দেয়ার জন্য চাল লুটের অভিযোগ এনে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক মাইনুল ঘরামীসহ অজ্ঞাতনামা দু’শ’ দুঃস্থর বিরুদ্ধে গৌরনদী থানায় মামলা করেন। এনিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানা যায়, বার্থী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান প্যাদা জনপ্রতি বরাদ্দকৃত দশ কেজি চালের পরিবর্তে ৫ থেকে ৭ কেজি করে চাল বিতরণ শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করায় দুপুর একটার দিকে চাল বিতরণ বন্ধ করে রাখেন চেয়ারম্যান ও তার লোকজন। এসময় চাল না পেয়ে উপস্থিত দু’শতাধিক দুঃস্থ বিক্ষোভ মিছিল করে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ঘেরাও করে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এসময় চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হয়ে লোকজনকে মারধর শুরু করেন। তার লাঠির আঘাতে চাল নিতে আসা বেজগাতি গ্রামের ময়ুরি বেগম (৫০) ও ছালমা আক্তার (৪০) রক্তাক্ত জখম হন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্থী ইউনিয়নের একাধিক ইউপি সদস্য জানান, চেয়ারম্যান গোডাউন থেকে চাল উত্তোলনের পর পরই বড় একটি অংশ কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। চাল ঘাটতি পড়ায় তিনি দুঃস্থদের মাঝে ৩/৪ কেজি চাল কম দেয়া শুরু করেন এবং তিন শতাধিক দুঃস্থকে চাল দিতে না পারায় উত্তেজনা দেখা দেয়। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক মাইনুল ঘরামী জানান,‘অসহায় নারীদের ওপর হামলা ও স্লিপ পাওয়া দুঃস্থদের চাল না দেয়ায় আমি প্রতিবাদ করি। এনিয়ে চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। চেয়ারম্যান তার অপকর্ম ঢাকতে সে নিজে বাদী হয়ে আমিসহ দু’শ’ দুঃস্থর বিরুদ্ধে গৌরনদী থানায় চাল লুটের মামলা করেন। চাল আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান প্যাদা বলেন, মাইনুল ঘরামীর নেতৃত্বে দুই শতাধিক নারী, পুরুষ পরিষদের গোডাউন থেকে চাল লুট করে নিয়ে যাওয়ায় দুঃস্থদের চাল বিতরণ সম্ভব হয়নি।