বিএনপি নির্বাচনে না এলে বিকল্পও ভাবা হচ্ছে

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪১
সংবিধানের বর্তমান কাঠামোর ভেতরে থেকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে এখন পর্যন্ত বদ্ধপরিকর সরকার। দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগেও অভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। এই ব্যবস্থায় বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে বিকল্প হিসেবে কি কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে-তা নিয়ে এখন থেকেই সক্রিয় ক্ষমতাসীনরা। সেক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প নিয়েও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বিএনপি বারবার স্পষ্টভাবেই বলেছে-নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি বা দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি অনুযায়ী নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের আপাততঃ কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই। বরং বর্তমান সংবিধানের আলোকেই কীভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যায়, সেদিকেই পূর্ণ মনোনিবেশ করা হচ্ছে। নির্বাচনে বিএনপিসহ নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণ করানোর বিষয়টিকে অবশ্য সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা থাকবে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন আয়োজনের। তবে নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে বিএনপিসহ কোনো কোনো দল নির্বাচনে না গেলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথেই হাঁটবে সরকার কিংবা আওয়ামী লীগ। সূত্রমতে, প্রধান বিরোধী দল যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বর্জন করে তাহলে বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে সরকারি দলের বিকল্প ভাবনায়। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল যাতে নির্বাচনে অংশ নেয়, সে লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হতে পারে। যেসব দল নির্বাচনে অংশ নেবে, সেসব দলের কেউ কেউ এককভাবে-আবার কোনো কোনো সমমনা দল নিজেরা নতুন জোট গঠনের মাধ্যমেও যেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, সেক্ষেত্রেও কৌশলী ভূমিকা রাখতে পারে সরকারি দল। আর নির্বাচনে যেন মোট ভোটারের অন্তত অর্ধেক সংখ্যক ভোট প্রদান করেন, সেজন্যও যাবতীয় উদ্যোগ নেয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। নিবন্ধিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের অংশগ্রহণে এবং ৫০ শতাংশ বা এর বেশি ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রভাবমুক্ত একটি অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে তা যেন বাহির্বিশ্বে গ্রহণযোগ্য করানো যায়, সে ব্যাপারেও সচেষ্ট থাকবে সরকার ও আওয়ামী লীগ।জানা গেছে, দাবিতে অটল থেকে বিএনপি নির্বাচনে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে তখন ১৮ দলীয় জোটভুক্ত নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্য থেকেও কাউকে কাউকে নির্বাচনে নিয়ে আসার কৌশল নেয়া হতে পারে। মহাজোট ও ১৮ দলের বাইরের অন্যান্য নিবন্ধিত দলকেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার সক্রিয় চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। বিএনপি নেতৃত্ব যাতে দলের ভেতরেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার চাপ অনুভব করে-সেলক্ষ্যেও করণীয় নিয়ে ভাবছে সরকারি দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সংবিধানের বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে সেক্ষেত্রে রাজপথের সম্ভাব্য আন্দোলন নিয়ন্ত্রণেও বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে পারে সরকার। আন্দোলনকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার জন্য করণীয় নিয়েও সরকার এখন থেকেই ভাবছে। ব্রিটেনের প্রভাবশালী সাপ্তাহিক ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ও সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলেছে- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার মধ্যে সমঝোতার ন্যূনতম আভাস নেই। সম্ভাব্য সবকিছুর হিসাব কষে এখানকার ক্ষমতাসীন দলও আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিকল্প ভাবনায় সক্রিয়। সরকারি দল যে সংবিধানে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে থেকেই নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর, এর কিছু আলামতও দৃশ্যমান। নির্বাচন কমিশনও (ইসি) বিদ্যমান সংবিধানের আলোকে যথাসময়ে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এছাড়া বর্তমান সংবিধানের আলোকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের চিন্তা-ভাবনা থেকেই প্রধানমন্ত্রীসহ ২০ জন মন্ত্রী বা মনোনীত ব্যক্তিকে নির্বাচনের সময় বিশেষভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার সুযোগ রেখে নির্বাচনী আইন সংশোধনীরও প্রস্তাব গেছে ইসির কাছে। অবশ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ইতিমধ্যে বলছেন, দুই ধরনের সরকারের (দলীয় ও নির্দলীয়) অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। এদিকে, আওয়ামী লীগও বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজধানী ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বিলবোর্ডের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে একাধিক জরিপ চালানো হয়েছে, তিনশটি সংসদীয় আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। ঈদুল ফিতরের দিনেও গণভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া বক্তব্যে তিনি পরবর্তী নির্বাচনে সরাসরি ‘নৌকা’ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। প্রসঙ্গত, সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চলতি ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।