আদিলের গ্রেফতার আইনসঙ্গত

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৫
মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খানকে দেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘনের কারণে আইনসংগতভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেসনোটে এ কথা বলা হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দীন আহমেদের স্বাক্ষরিত প্রেসনোটে বলা হয়, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন/২০০৬-এ বর্ণিত অপরাধগুলো আমলযোগ্য না হলেও অজামিনযোগ্য এবং বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারযোগ্য। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন/২০০৬-এর ৫৭ (১) ও (২) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খানের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (জিডি নং-৫১৪, তারিখ:১০/০৮/২০১৩) দায়েরের পরই তাকে তার গুলশানের বাসার সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। দেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘনের কারণে তাকে আইনসংগতভাবে গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।’ ওই প্রেসনোটে আরো বলা হয়েছে, অধিকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার লক্ষ্যে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (http:// www.odhikar.org/ about.html) বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ২৮ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ৬১ বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি। কয়েক বছর ধরে সংস্থাটির নির্বাহী হিসেবে সামগ্রিক কার্যাবলি পরিচালনা করে আসছেন আদিলুর রহমান খান। তার নির্দেশনায় ওই প্রতিবেদনে শুধু রাতের অভিযানে হত্যাকাণ্ড চালানো হয় বলে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়। প্রতিবেদনে দিনব্যাপী হেফাজতের নেতা-কর্মীদের হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও হত্যার বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হয়। দিনের বেলায় নিহত কয়েকটি মৃতদেহ ও আহত কয়েকজনের ছবি কম্পিউটারে ফটোশপের সাহায্যে জোড়া লাগিয়ে রাতের অভিযানে তারা নিহত হয়েছে বলে প্রচ্ছদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, আদিলুর রহমান খান ওই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছেন। ফলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘হেফাজত কর্মীরা বিভিন্ন রাস্তার বিদ্যুতের খাম্বা উপড়ে ফেলায় সন্ধ্যার পর শাপলা চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকারে শাপলা চত্বরের আশপাশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবন লক্ষ্য করে হেফাজত কর্মীরা হামলা চালাতে থাকে। তাদের এ হিংসাত্মক হামলা থেকে বিরত থাকতে এবং মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে সরে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সরে না গিয়ে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দেয়। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা ধ্বংসাত্মক হামলা থেকে রক্ষায় মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে তাদের সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত দুইটার দিকে মাইকে তাদের ওই স্থান ত্যাগ করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়। এতে তারা আরো উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালাতে থাকে, মঞ্চের মাইক থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়। পুলিশ তাদের স্থান ত্যাগের জন্য শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে সতর্ক করে। কিন্তু এতে তারা কর্ণপাত করেনি। ফলে পুলিশ নিয়ম অনুযায়ী নন-লেথাল উইপন (Non Lethal Weapon) হিসেবে টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। এতে ১০ মিনিটের মধ্যেই তারা সবাই স্থান ত্যাগ করে। তবে তাদের বিভিন্ন গ্রুপ সংগঠিত হয়ে অলিগলির ভেতর থেকে কিছুক্ষণ হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে তারাও পালিয়ে যায়।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, অভিযান পরিচালনার সময় বিপুলসংখ্যক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ দেশি-বিদেশি সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন। কয়েকটি ইলেকট্রনিক মিডিয়া পুরো অভিযান সরাসরি সমপ্রচার করেছে। রাতের অভিযানে কোনো মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার কারণে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে, দিনের বেলায় হেফাজতে ইসলাম ও তাদের সহযোগী উচ্ছৃঙ্খল নেতা-কর্মীদের আক্রমণ ও পুলিশের প্রতিরোধের কারণে মোট ১১ জন ব্যক্তি নিহত হয়। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আরো দু’জনের মৃত্যু হয়। প্রেস নোটে আরো বলা হয়েছে, অধিকার ২৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ৬১ জনের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিয়ে একটি কাল্পনিক প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ধরনের মিথ্যা, কাল্পনিক তথ্য ইন্টারনেটে বিশেষ উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেয়ায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন/২০০৬-এর ৫৭(১)(২) ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এ অভিযোগের পক্ষে ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনটি দালিলিক সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। এ ধরনের অপরাধের শাস্তি ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা।