এখনো অন্ধকারে ভোলা

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৬
তিন দিনেও ভোলায় বিদ্যুত্ বিপর্যয় কাটেনি। জেলার ২০ লাখ মানুষ এখনও অন্ধকারে রয়েছেন। জেলার কোথাও বিদ্যুত্ নেই। গতকাল সোমবার বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত টিম ক্ষতিগ্রস্ত গ্রিড এলাকা ও বিকল রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তদন্ত টিমের নেতৃত্ব দেন পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের ডিরেক্টর (অপারেশন ও মেইনটেনেন্স) তপন কুমার রায়। তিনি ঢাকায় ফিরে রিপোর্ট দিবেন। তবে ভোলার বিদ্যুত্ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী জানান, আগামী ২-১ দিনের মধ্যে জেলায় সীমিত পর্যায়ে বিদ্যুত্ চালু করা যাবে। ঈদের পরদিন গত শনিবার রাতে রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র বিকল হয়ে গেলে সমগ্র ভোলা জেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় । ৩৩ কেভি গ্রিড লাইনের বরিশাল ও পটুয়াখালীর কালাবাদর ও তেঁতুলিয়া নদীতে স্থাপনকৃত সাবমেরিন ক্যাবল গত ১ মাস যাবত্ বিকল থাকায় গ্রিড লাইনেও বিদ্যুত্ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এদিকে ওজোপাডিকো’র (ওয়েষ্টজোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানি) চীফ ইঞ্জিনিয়ারের নেতৃত্বে একটি কারিগরি দল বরিশালের লাহার হাটে ভোলার জন্য আনা ৫ কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবল জয়েন্টের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল ভোরে বিপুল পরিমাণ নতুন সাবমেরিন ক্যাবল ট্রাকযোগে লাহারহাটে এসে পৌঁছায়। এ ক্যাবলগুলোর জয়েন্টের কাজ শেষে বার্জযোগে পটুয়াখালী-ভোলা ৩৩ কেভি গ্রিড লাইনের তেঁতুলিয়া নদীর তলদেশে স্থাপন করা হবে বলে ভোলার বিদ্যুত্ বিভাগ জানিয়েছে। বিকল ৩৪.৫ মেগাওয়াট রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান জানান, রেন্টাল কেন্দ্রের ফল্ট চিহ্নিত করা ও তা মেরামতের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার ভারত থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় এসে পৌঁছবেন। তারা শুক্রবার ভোলা পৌঁছে কাজ শুরু করবেন । তবে কবে নাগাদ এ বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি চালু হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিদ্যুত্ -এর দাবিতে মিছিল-সমাবেশ তৃতীয় দিনেও বিদ্যুত্-এর দাবিতে ভোলা শহর মিছিলে-সমাবেশে সরগরম ছিল। যে কোন দুর্ঘটনার আশংকায় বিদ্যুত্ কেন্দ্রে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। দুঃসহ গরম ও পানি সরবরাহ ভেঙ্গে পড়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে। ভুক্তভোগীরা জানান, ঈদের জন্য রক্ষিত তাদের ফ্রিজের খাবার সব বিনষ্ট হয়েছে। লোকজন মোবাইলে চার্জ দিতে পারছে না। তাদের দাবি, ১ মাস গ্রিড লাইন বিকল থাকার পরও কার অবহেলায় তা মেরামত হলো না, তা তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে।