জেলার জেলখানা ঘাটের সামনে শহর রক্ষা বাঁধের ১১০ মিটার এলাকায় ধস নেমেছে। ঈদের আগের দিন গত বৃহস্পতিবার ভোর রাতে শহর রক্ষা বাঁধের পুরাতন জেলখানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শহরবাসীর মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে। বাঁধের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় ঘটনার দিন থেকেই সেনা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সেখানে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ পুলিশ। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ধস ঠেকাতে বালির বস্তা ও সিসি ব্লক নিক্ষেপ করে ভাঙ্গনরোধের চেষ্টা চলছে। এদিকে শহর রক্ষা বাঁধের ৭২০ থেকে সেকশন ৬০০ (উত্তর) পর্যন্ত এবং পুরাতন জেলখানা থেকে সেকশন এসডি ১৫০ পর্যন্ত এলাকা ধসের আশংকায় লাল পতাকা উড়িয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদী সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টের পুরাতন জেলখানা ঘাট এলাকায় গত বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে প্রবল ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে বাঁধের প্রস্থে ২০ মিটার এবং দৈর্ঘ্যে ১১০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর স্থানীয় এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এসে নিজেদের উদ্যোগে পাথর আর সিসি ব্লক নিক্ষেপ শুরু করলে ১ ঘন্টা পর বাঁধ ধস নিয়ন্ত্রণে আসে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের বিশেষায়িত শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান সরদার ইত্তেফাককে বলেন, যমুনা নদীর পানি কমলেও নদীর তলদেশে প্রবল ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বাঁধের নিচে সিসি ব্লক সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ধস নামে। তিনি আরো বলেন, নদীটির পূর্বদিকের চ্যানেল মরে যাচ্ছে। এ কারণে পানি বাঁধে এসে আঘাত করছে। সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাঁধে ধস নামার আশংকা থাকতে পারে। শহর রক্ষা বাঁধের সেকশন ৩২৮-৪৮০, ০-৯ এবং ২০০-২২৩ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সেখানে ধসরোধে নিয়োজিত ঠিকাদারকে সিসি ব্লক আর বালুর বস্তা ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, শহর রক্ষা বাঁধে আর যাতে ধস নামতে না পারে সেজন্য জরুরিভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আতংকিত না হতে তিনি শহরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে শহর রক্ষা বাঁধের সেকশন ৭২০ থেকে সেকশন ৮শ (উত্তর) পর্যন্ত এলাকা থেকে প্রায় ২৬টি পাইলিংক বাঁশ ভেসে ওঠে। এছাড়া পানির নিচ থেকে বুঁদ বুঁদ দেখা দেয়। বিষয়টি তাত্ক্ষণিকভাবে নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হলে সার্ভে শুরু করা হয়। এরপর সেখানে লাল পতাকা উড়িয়ে বালির বস্তা ও সিসি ব্লক নিক্ষেপ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৮ জুলাই রাতে প্রথম পয়েন্টে ৭০ মিটার, ২২ জুলাই রাতে দ্বিতীয় পয়েন্টে ১০৫ মিটার এবং সর্বশেষ ২৪ জুলাই রাতে তৃতীয় পয়েন্টে ১০০ মিটার জেলার শহর রক্ষা বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর আগে ২০০৯ এবং ২০১০ সালে আরও কয়েক দফায় বাঁধটিতে ধস নামে। স্থায়ী বাঁধটিতে বারবার ধস নামার জন্য শহরবাসী স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি ও অদক্ষতাকেই দায়ী করেছেন।
