রংপুর মেডিক্যালের চিকিত্সা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫৬
চার দিন পেরিয়ে গেলেও ঈদের আমেজ কাটেনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ফলে কার্যতঃ ভেঙ্গে পড়েছে হাসপাতালের চিকিত্সা ব্যবস্থা। অনেক ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটি নিয়ে ঈদ উদযাপনের জন্য বাড়ি গেলেও তাদের অধিকাংশই গতকাল পর্যন্ত কর্মস্থলে যোগদান করেননি। যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের অনেকেই হাসপাতালে নামকাওয়াস্তে ডিউটি পালন করছেন। এদিকে গত ৫ দিনে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা-সেবা না পেয়ে ৩৩ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীদের নানা দুর্ভোগের চিত্র। হাসপাতালে চিকিত্সক ও নার্সসহ ওয়ার্ড বয়দের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। রোগী ও তাদের অভিভাবকদের অভিযোগ, চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। চিকিত্সা সেবা না পেয়ে সচ্ছল ব্যক্তিরা তাদের রোগীদের হাসপাতাল থেকে ক্লিনিকে ভর্তি করালেও নিম্নবিত্ত রোগীরা হাসপাতালে চিকিত্সা সেবা না পেয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। পাশাপাশি হাসপাতালে দেখা দিয়েছে ওষুধ সংকট। রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের প্রায় সোয়া ২ কোটি মানুষের এই হাসপাতালে বেড সংখ্যা মাত্র ১ হাজার। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার রোগী চিকিত্সাধীন থাকে। এর মধ্যে শিশু বিভাগে প্রতি বেডে ৩ থেকে ৪ শিশু গাদাগাদি করে রয়েছে। সার্জারি, গাইনি বিভাগেও একই অবস্থা। চিকিত্সক, নার্স, ওয়ার্ড বয়রা ছুটিতে থাকায় এই সকল ওয়ার্ডের রোগীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বিশেষ করে ঈদের ছুটির আমেজ এই সকল ওয়ার্ডের রোগীদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। শিশু বিভাগের রোগীর অভিভাবকরা প্রায়ই সব ওষুধই চড়া দামে বাইরে থেকে ক্রয় করছেন। হাসপাতালের নামে বরাদ্দ দেয়া ওষুধ কোথায় কিভাবে ব্যবহার হয় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক শ্রেণির ওষুধ পাচারকারী হাসপাতালের ওষুধ নিয়মিত পাচার করে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। এছাড়াও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েছে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী ও তাদের অভিভাবকরা। হাসপাতাল চত্বরে ৩টি টিউবওয়েল থাকলেও ২টিই অকেজো। গোটা হাসপাতালের জন্য মাত্র ১টি টিউবওয়েল থাকলেও এর দুর্গন্ধময় পানি পান করতে পারছে না তারা। হাসপাতালের ১৫নং ওয়ার্ডের সার্জারি বিভাগে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে চিকিত্সাধীন গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের রোগী তাসানুর ইসলামের ভাতিজা হাসু জানান, গতকাল দুপুর সোয়া ১২টায় ভর্তি হলেও বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোন ডাক্তার আসেননি। রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কোন ডাক্তারের দেখা পাইনি। পঞ্চগড়ের বোদাপাড়া এলাকার সুলাল মিয়া জানান, তার ৪ দিনের নবজাতককে গত রবিবার বিকেলে হাসপাতালের ১০নং ওয়ার্ডের শিশু বিভাগে ভর্তি করান। তিনি জানান, উন্নত চিকিত্সার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসে সন্তানের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। ডাক্তার-নার্স কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একই জেলার বাসিন্দা নুর ইসলাম জানান, আমার নাতনীর জন্ডিসে আক্রান্ত ৬ দিনের নবজাতককে গত শনিবার এই ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখানে ডাক্তার পাওয়া দুরূহ ব্যাপার। যদিও পাওয়া যায় তাও উপরের তদবিরে। ওয়ার্ডের টয়লেট ও বাথরুমগুলো একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী। পানিরও প্রকট সংকট। এদিকে গত ৫ দিনে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিত্সা-সেবা না পেয়ে ৩৩ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডাঃ গোলাম মোস্তফা চিকিত্সা-সেবা না পেয়ে মৃত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে সকল চিকিত্সক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ছুটি নিয়েছিলেন তাদের অধিকাংশই ইতিমধ্যে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। চিকিত্সা-সেবা ব্যাহত হওয়ার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি।