ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী মানুষের পথে পথে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। গণপরিবহন সংকট ও ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্যের কারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। যানবাহনগুলো স্বাভাবিকের ২/৩ গুণ ভাড়া আদায় করছে। বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। হরতাল নিয়ে মানুষের আতংক বিরাজ করছে।
কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে ঈদ আনন্দ দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। হরতালের মধ্যে যানবাহন চলাচল যাতে ব্যাহত না হয় ও হরতাল সমর্থকরা নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাড়তি নিরাপত্তা নিয়েছে। গতকাল সোমবার কর্মস্থলমুখী মানুষের ব্যাপক ভীড় দেখা গেছে। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকামুখী যাত্রীবাহী কোচ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি চলাচল করেছে। হরতাল শুরুর আগেই যেন গন্তব্যস্থলে পৌঁছা যায় তা নিয়ে সকলেই ব্যস্ত ছিলেন। আবার পথে হরতাল সমর্থকদের হামলার শিকার হতে হয় কিনা তা নিয়ে মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। পুলিশ জানায়, ঈদ শেষে মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে ফিরতে পারে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মহাসড়ক ও চট্টগ্রাম মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাদা ও পোশাকধারী পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে। এ ব্যাপারে সিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘শহরের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হবে। সাদা পোশাকধারী ডিবি ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। আশাকরি কোন সমস্যা হবে না।’
অন্যদিকে বিগত সময়ে জামায়াত-শিবিরের ডাকা হরতালগুলোতে দেখা গেছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীতে ব্যাপক নাশকতামূলক ঘটনা ঘটেছে। এমনকি থানায় পুলিশের উপর হামলা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকায় যানবাহনে ব্যাপক ভাংচুর হয়েছে। এসব এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানায়। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আকতার ইত্তেফাককে বলেন, ‘সড়কে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব মোতায়েন থাকবে। জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’
ঈদের বন্ধ শেষে রবিবার অফিস-আদালত, ব্যাংক, বীমা খুলেছে। ফলে শনিবার বিকাল থেকে কর্মজীবী মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। তার উপর মঙ্গল ও বুধবার হরতাল থাকায় যথাসময়ে পৌঁছা নিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। হরতালের সময় যানবাহন নিয়ে পথে পথে ভোগান্তি পোহাতে হবে। ফলে সচেতন মানুষ হরতালের আগেই কর্মস্থলে ফিরে যেতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম শহরের প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে অন্তত ১০ লাখ মানুষ গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে গেছেন। অনেকেই ঈদের ছুটি কম ও হরতাল থাকায় বাড়ি যাওয়ার কর্মসূচি বাতিল করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ১৩ আগস্ট খোলা হচ্ছে। ফলে নারী-পুরুষ ও শিশু মিলে জনস্রোত এখন শহরমুখী। ভুক্তভোগীরা জানান, যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য গাড়ি ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে। মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগে গাড়ি চালকরা স্বাভাবিকের চেয়ে ২/৩ গুণ বেশি ভাড়া নিচ্ছে। নিরুপায় হয়ে মানুষ আসতে বাধ্য হচ্ছে। অসহায় মানুষ পুলিশ প্রশাসনের কোন সহযোগিতা পাচ্ছে না। বিশেষ করে চট্টগ্রাম শহরের আশপাশের উপজেলা ও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী যানবাহনগুলো মানুষকে জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। অন্যদিকে সিএনজি অটো রিক্সাগুলো ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চালাচ্ছে। সিএনজিতে উঠা-নামা করলেই ১০০ টাকা। এছাড়া দূরত্ব ভেদে ২০০ টাকার ভাড়া ৪০০/৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। নগরীর প্রবেশমুখ মইজ্জ্যারটেক, কর্ণফুলী সেতুর উত্তর পাশ, অক্সিজেন মোড়, অলংকার মোড়, বিশ্বরোড মোড়ে দেখা যায় গাড়ির জন্য অসংখ্য মানুষ ভীড় করছে। সিএনজি অটোরিক্সা দেখলেই মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। বাড়ি ফেরত মানুষের সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিসপত্র, ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
নৌপথে চট্টগ্রাম-হাতিয়া রুটে জাহাজে করে কর্মজীবী মানুষ শহরে ফিরতে শুরু করেছে। এই রুটে তিনটি জাহাজ সপ্তাহে চারদিন চলাচল করছে। সড়কপথে দুর্ভোগের কারণে অনেকেই নৌপথে যাত্রা নিরাপদ মনে করছে। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপক (যাত্রী) নাসির মাহমুদ চৌধুরী জানান, নৌপথে প্রচুর মানুষ শহরে আসছে। জাহাজগুলো ঈদের আগেই যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
