তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি সেবা (থ্রিজি) তরঙ্গ নিলাম আবেদন জমা দিয়েছে সবগুলো মোবাইল ফোন অপারেটর। গতকাল শেষ দিনে আবেদন জমা দিয়েছে দেশের বেসরকারি পাঁচটি অপারেটর। কোন বিদেশি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেনি। আর আগেই লাইসেন্স পেতে আবেদন করে রাষ্ট্রীয় মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক। দেশীয় সবগুলো অপারেটর আবেদন জমা দিলেও লাইসেন্স পাবে রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটক ছাড়া অপর ৪টি মোবাইল ফোন কোম্পানী। নতুন কেউ আবেদন না করায় বিদ্যমান কোম্পানীগুলোর মধ্যেই ৪টিকে লাইসেন্স দেয়া হবে। লাইসেন্স পাবে না শুধুমাত্র একটি মোবাইল ফোন অপারেটর। নিলামে সেটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর নিলামের সময় নির্ধারিত রয়েছে।
গতকাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি কার্যালয়ে লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সসিং বিভাগে জমা দেয়ার শেষ সময় ঠিক ৫টার কিছু আগেই আবেদন জমা দেন অপারেটরদের প্রতিনিধিরা। লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সসিং বিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুজ্জামানের কাছে আবেদন জমা দেয়া হয়। থ্রিজি নীতিমালায় এক বিদেশি অপারেটরের আসার সুযোগ থাকলেও কোনো বিদেশি অপারেটর আবেদন করেনি। গতকাল সন্ধ্যায় কোরিয়ান একটি প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ নেয়ার আগ্রহ জানিয়ে সময় বাড়াতে বিটিআরসিকে অনুরোধ করে। কিন্তু বিটিআরসি তাতে রাজি হয়নি।
আবেদন জমা দেয়ার পর বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে থ্রিজি নিলামের প্রস্তুতি শুরু হল। অপারেটরদের কর কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন আপত্তি ও অন্যান্য সমস্যা আন্তরিকতার সাথে সমাধান করা হয়েছে জানিয়ে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, এখন অপারেটররা খুব খুশি। বিদেশি অপারেটর না এলেও নিলামে প্রতিযোগিতা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান।
আবেদন জমা দেয়ার পর গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, অমীমাংসিত কিছু বিষয় খুব শিগগিরই মীমাংসা হবে বলে আশা করি। সিম রিপ্লেসমেন্ট ইস্যুটি আগামী ২৬ আগষ্ট বিড আর্নেস্টমানি জমা দেয়ার আগেই সমাধান হবে বলে আশা করেন বাংলা লিংকের সিনিয়র পরিচালক জাকিউল ইসলাম। রবি’র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান, এয়ারটেলের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার আশরাফ এইচ চৌধুরী এবং সিটিসেলের জেনারেল ম্যানেজার (কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স) শরিফ শাহ জামাল রাজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গতকাল আবেদন জমা দেন।
সুনীল বোস অপারেটরদের দাবির বিষয়ে বলেন, আমি আশা করি, বিড আর্নেস্টমানি জমা দেয়ার আগেই তাদের দাবিগুলোর সুরাহা হবে। লাইসেন্স আবেদন জমা দেয়ার আগে বেসরকারি অপারেটরদের সিইওদের সাথে তার বৈঠক হয়েছে বলেও জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গ মূল্য ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি সেবা (থ্রিজি) লাইসেন্স নীতিমালা চূড়ান্ত করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। চূড়ান্ত নীতিমালায় বাংলাদেশের বেসরকারি ৫টি মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে তিনটি এবং নতুন এক অপারেটরকে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ৬ অপারেটরের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক পরীক্ষামূলক থ্রিজি সেবা দিচ্ছে। থ্রিজি চূড়ান্ত নীতিমালা অনুযায়ী টেলিটক নিলামে অংশ না নিলেও নিলামে যে দর উঠবে, সে পরিমাণ টাকা দিয়েই টেলিটককে লাইসেন্স নিতে হবে। টেলিটকসহ মোট ৫ অপারেটর থ্রিজি লাইসেন্স পাবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিদেশি অপারেটর না এলে দেশীয় চারটি অপারেটর লাইসেন্স পাবে। ১৫ বছরের জন্য তাদের থ্রিজির লাইসেন্স দেয়া হবে।
