চীনা সেনাবাহিনীর নৌ-চিকিত্সা জাহাজ ‘পিস আর্ক’ আগামী ১৯ থেকে ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ সফরে আসছে। জাহাজটির সপ্তাহব্যাপী সফরের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিত্সা সেবা প্রদান আর সামরিক হাসপাতালের চিকিত্সকদের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান আদান-প্রদান করা। বন্ধুত্বপূর্ণ সমুদ্র তথা বন্ধুত্বপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে চীনা সেনাবাহিনীর বিশাল আকৃতির এই হাসপাতাল জাহাজটি পাঁচ মাসের ভ্রমণে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ প্রদক্ষিণ করছে। সোমবার বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের মিলিটারি এ্যাটাসে সিনিয়র কর্নেল জেং উই এক সাংবাদিক সম্মেলনে ‘পিস আর্ক’ হাসপাতাল জাহাজের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময়ে ডেপুটি মিলিটারি এ্যাটাসে লে. কর্নেল লিউ জিয়াও উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, ‘পিস আর্ক’ ইতিমধ্যে ব্রুনাই, মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও ভারত ভ্রমণ করেছে। ১৯ থেকে ২৫ আগস্ট চট্টগ্রামে অবস্থানের পর ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া যাবে। এর আগে ২০১০ সালের নভেম্বরে পিস আর্ক চট্টগ্রামে আসে। তখন ৩ হাজার ২১৩ জন রোগীকে চিকিত্সা দেয়া হয়। এছাড়া ১৭৩ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ২৩টি অপারেশন করা হয়। সম্পূর্ণ চীনা প্রযুক্তিতে ২০০৮ সালে নির্মিত পিস আর্ক ১৭৮ মিটার দীর্ঘ ও ২৪ মিটার প্রস্থ। ১৪ হাজার টন ওজন বহনে সক্ষম এটি। সাত ইউনিট মেডিক্যাল টিম, ৮টি নার্স রুম, ৮টি অপারেশন কক্ষ ও ৩০০টি শয্যা রয়েছে এই জাহাজে। বেইজিং এর যেকোন বড় হাসপাতালের মত দিনে ৪০টি অপারেশনে সক্ষম এই হাসপাতাল জাহাজটি। আইসিইউ, এক্সরে রুম, ডেন্টাল রুম, ডপলার আলট্রা সাউন্ড রুম রয়েছে। ১৫ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারীসহ ৪৬ জন চিকিত্সক, ৫৪ জন নার্স ও চিকিত্সা সহযোগী রয়েছেন এই জাহাজে। পিস আর্ক নাক, কান ও গলা, দাঁত, গাইনীসহ যেকোন বড় রোগের চিকিত্সা দেয়া হয় এই জাহাজে। গত পাঁচ বছরে ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ায় সাধারণ চিকিত্সা ছাড়াও, মানবিক সহায়তা, জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও চিকিত্সা সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে জাহাজটি। ১৯ আগস্ট দুপুরে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে এবং ২৫ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ছেড়ে যাবে। ২০ আগস্ট জাহাজটি একদিনের জন্য ঢাকা আসবে। নৌবাহিনী প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন জাহাজের কমান্ডারগণ। এছাড়া চীনা দূতাবাস বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়।
