ষষ্ঠ শ্রেণির পড়াশোনা: কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা
বিষয়: কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা
আত্মবিশ্বাস হল জীবনে সফল হওয়ার মূলমন্ত্র। আত্মবিশ্বাসী না হলে জীবনে সফল হওয়া যায় না। জীবনে চলার পথে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে। কিন্তু যারা আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান, তারা সহজে হাল ছাড়ে না। লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত চলতেই থাকে তাদের সংগ্রাম। যত বাধাই আসুক কিছুই তাদের থামিয়ে রাখতে পারে না। এরই উপর ভিত্তি করে আজকের গল্প।
তোমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা ভাব। বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানিরা আমাদের বঞ্চনা করেছে। আমাদের টাকায় আমাদের সম্পদে তারা পাহাড় গড়েছে। তারপর আমরা যখন আমাদের ন্যায্য অধিকার চাইলাম, তখন ওরা আমাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাতে লাগল। ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে অতর্কিতে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। নির্বিচারে হাজার হাজার নিরস্ত্র ঘুমন্ত মানুষ হত্যা করল। সেই জুলুম আমরা মেনে
নিইনি। আমরা তার শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। আমাদের না ছিল অস্ত্র-শস্ত্র, না ছিল সামরিক প্রশিক্ষণ। কিন্তু আমাদের বাংলা মায়ের দামাল ছেলে-মেয়েরা আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান ছিল। তারা শত বাধা অতিক্রম করেও বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।
জীবনে বড় হতে হলে তোমাদের গুনের অধিকারী হতে হবে। তাহলেই বেঁচে থাকবে অনন্তকাল। মন-প্রাণ দিয়ে স্মরণ করবে তোমাকে , তুমি ভালবাসা পাবে সকলের। আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা,আত্মদান, শ্রদ্ধা, সহযোগিতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মানবিক মূল্যবোধগুলো অর্জন করে তোমাকে নৈতিকবলে বলিয়ান হতে হবে। তবেই হবে মানুষ। আজ আমরা এমনই এক আত্মদানের গল্প বলব। গল্পটি লিখেছেন শিশু সাহিত্যিক খালেক বিন জয়েন উদ্দিন।
আত্মদান
খালেক বিন জয়েনউদদীন
ত্রিশ লক্ষ মানুষের প্রাণবিসর্জন আর স্বাধীনতাকামী মানুষের যুদ্ধ-লড়াইয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। পরাজিত হয় হানাদার বাহিনী, পাকিস্তানি সৈন্য ও দেশীয় দোশররা। মুক্তিযুদ্ধের সেইসব ঘটনা আমরা সবাই জানি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সকল প্রেরণা ও উত্স ছিলেন বাঙালির প্রিয় মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তরে স্বাধীনতা ঘোষণার পর পরই পাকসৈন্যরা তাঁকে বন্দী করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়। দেশ শত্রুমুক্ত হলে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করেন তিনি।
অনেক স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম ও আন্দোলন করেছেন। দেশ পুনর্গঠনে সেই স্বপ্ন নিয়ে নিরন্ত কাজ করেছেন। দেশের সাধারণ মানুষের সন্তানদের শিক্ষা দেবার সবধরনের উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন। কৃষি ও যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভৃতি উন্নয়ন করেন। তখনো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সফল হয়নি। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তাঁকে প্রাণ হারাতে হলো স্বাধীনতা বিরোধী একদল ঘাতকদের হাতে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে। তার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিশ্বের দরবারে একটি অন্যতম দেশ। তার আত্মদানের বিনিময়ে বাঙালিরা আজো বুকটান করে কথা বলে, নতুন দিনের স্বপ্ন দেখে। আত্মদান কখনো বৃথা যায় না।
প্রিয় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী বন্ধুরা তোমরাও এরকম আত্মদানের উপর ১শ শব্দের মধ্যে গল্প লিখে পাঠিয়ে দাও আাামাদের ঠিকানায় । ঠিকানা :দৈনিক ইত্তেফাক (অনুশীলন বিভাগ)
৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা।
যেকোনো মতামত জানাতে ০১৭১৪৭০৫৭২৭ অথবা, ইমেইল [email protected]
