স্থানীয় ঠিকাদারদের কাজের সুযোগ, এলাকায় গ্যাস সংযোগ, শ্রমিকদের বেতনভাতা বৃদ্ধি ও গ্যাসফিল্ডে স্থানীয়দের চাকরির দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর গ্যাসফিল্ডের বিক্ষুব্ধ শ্রমিক-ঠিকাদার ও কালাপুর এলাকাবাসী। অবরোধের কারণে ওই ক্ষেত্র থেকে গ্যাসের সঙ্গে ওঠা পানি ও কনডেনসেট সরিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে এই গ্যাস ক্ষেত্রটির সাথে হবিগঞ্জের মুচাইয়ে অবস্থিত কমপ্রেসার স্টেশনটিও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কমপ্রেসার স্টেশনটি বন্ধ হলে সারা দেশে স্বাভাবিক চাপে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হবে। ফলে পবিত্র রমজান মাসে সেই পরিস্থিতি হবে বিপর্যয়কর।
সম্প্রতি শ্রীমঙ্গলের কালাপুরে মার্কিন কোম্পানি শেভরন পরিচালিত মৌলভীবাজার গ্যাসফিল্ডের প্রবেশ রাস্তায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করে গ্যাসফিল্ডে কর্মরত বিক্ষুব্ধ শ্রমিক, তালিকাভুক্ত স্থানীয় ঠিকাদার ও এলাকাবাসী। মানববন্ধন শেষে মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন অন্দোলনকারীরা। এসময় তারা আধঘন্টা মহাসড়কটি অবরোধ করে রাখেন। আন্দোলনকারীদের দাবি শেভরন কোম্পানি স্থানীয়দের বঞ্চিত রেখে সারাদেশে গ্যাস সরবরাহ করছে। তাছাড়া স্থানীয় ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে একতরফা বাইরের ঠিকাদারদের কাজের সুযোগ দিচ্ছেন শেভরন কর্তৃপক্ষ। অন্যান্য গ্যাস ফিল্ডের তুলনায় এই প্লান্টের স্থানীয় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও সাপ্তাহিক ছুটি অনুমোদনের দাবিও জানান তারা। দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চালবে বলে হুমকিও দেন আন্দোলনকারীরা।
অভিযোগ রয়েছে, অবরোধকারী পাঁচ ঠিকাদার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছেন। এদের দাবি, শেভরনের তালিকাভুক্ত ২২ জন স্থানীয় ঠিকাদারের মধ্যে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কাজ দেওয়া যাবে না। সব কাজ তাদের পাঁচজনকে দিতে হবে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এটা করা যাবে না বলে শেভরন তাদের জানিয়ে দিলে তারা এই অবরোধ শুরু করেন।
জমশেদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে গত ৩০ জুন ও ২ মে ঢাকায় শেভরনের অফিসে বৈঠক হয়েছে। শেভরনের পক্ষে নাসের আহমেদ আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন ১৭ জুলাইর মধ্যে ১২ থেকে ১৫টি সরবরাহের কাজ স্থানীয় ঠিকাদারদের দেওয়া হবে। কিন্তু শেভরন সে কথা রাখেনি।’
ঠিকাদারেরা বলেন, অক্সিডেন্টাল, ইউনোকল ও শেভরনের পরিচালনাকালেও এর আগে এমন সমস্যা হয়নি। অবরোধকারী পাঁচজনসহ মোট ১৭ জন ঠিকাদারের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাঁরা গ্যাসক্ষেত্র অবরোধ করেছেন।
