মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ৪নং জয়চন্ডি ইউনিয়ন পরিষদের অর্ন্তগত মীরশংকর গ্রামের মৃত ঠাকুরধন পাল ও সুষমা পালের একমাত্র ছেলে ডাঃ হেম কুমার পাল। বয়স ৭০ ছুই ছুই করছে। সুঠাম দেহ, ছিমছাম চেহারা, চেহারায় বয়সের ছাপ এখন ও সুষ্পষ্ট নয়। দুধে-আলতায় রং। পোষক পরিচ্ছদে পরিপাঠি রয়েছে যথেষ্ট । সাজানো গুছানো বাড়ী, তবে লোকজনের সংখ্যা তুলনা মূলক ভাবে কম মনে হল। ছেলেরা চাকরির সুবাদে এবং নাতি নাতনিদের পড়াশুনার জন্য কুলাউড়া শহরে বসবাস করেন। এই প্রতিবেদকের কথা শুনে অর্ভ্যথনা জানিয়ে বাড়ীর ভেতরে নিয়ে গেলেন। তিনি জানালেন যে বাড়ীটিতে আমরা বসে আছি সেই বাড়িটিই তার আদি নিবাস। শৈশবে লেখা পড়া শেষ করে তিনি লেগে যান চিকিত্সা বিদ্যা অর্জনে। তিনি গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরন করেন বাড়ীর পাশে অবস্থানকারি এলাকায় অতি সুপরিচিত প্রয়াত পল্লী চিকিত্সক ডাঃ অশ্বিনী কুমার দাসের কথা। ছোটবেলা থেকেই তিনি তার সহকারি হিসাবে তার সংগে থেকে চিকিত্সা বিদ্যা রপ্ত করতে থাকেন। উক্ত চিকিত্সকের একমাত্র ছেলে ডাঃ অরুন কুমার দাস ছিলেন কুলাউড়া উপজেলার প্রথম স্বাস্থ্য প্রশাসক। তখন থেকেই তার দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা পড়ার প্রতি আগ্রহ ছিল এবং কুলাউড়া শহরে এসে বুকস্টলের সামনে দাড়িয়ে পত্রিকা পড়তে হত। সেই সময়ই তিনি ইত্তেফাক ছাড়া আর কোন পত্রিকা পড়তেন না। স্বাধীনতার পর তিনি পল্লী চিকিত্সক হিসাবে প্রশিক্ষন গ্রহন করেন এবং ১৯৭২ সাল থেকে স্বধীন ভাবে নিজ বাড়ীতে অবসা্থন করে প্রাইভেট প্র্যাকটিস শুরু করেন এবং দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার নিয়মিত গ্রাহক হন। দৈনিক ইত্তেফাক প্রতি তার আগ্রহ কেন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সকল সংবাদই বস্তু নিষ্ট এবং নির্ভরযোগ্য। ইত্তেফাক পত্রিকার উপ-সম্পাদকীয় বিশেষ করে প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মানিক মিয়া সাহেবের মিঠেকড়া (ভিমরুল) তাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করত। বিগত দিনের হাবিবুর রহমান মিলনের ঘরে বাইরে তার কাছে খুউব জনপ্রিয় ছিল। তাছাড়া স্বাস্থ্য পাতা তিনি নিয়মিত পাঠ করেন যা তার পেশা পরিচালনায় সাহায্য করে। তিনি আরো বলেন ,আগে দিনের পত্রিকা দিনে পাওয়া যেত না, সিলেটের পত্রিকা সুরমা মেইলে পরদিন ভোরে এসে পৌছত তবুও আগ্রহ সহকারে পড়তাম। একদিন কোন কারনে ইত্তেফাক পত্রিকা না পেলে সারাদিন মনটা খারাপ হয়ে যায়। হকার ভিন্ন পত্রিকা দিলে পত্রিকার পাতায় চোখ বুলাতাম সত্য কিন্তু পড়তে ইচ্ছে করে না। ৫২ বছরের অধিক সময় ধরে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকাই পড়ে আসছি এবং যতদিন বেঁচে থাকবো এই পত্রিকা পড়ে যাবো। তিনি আরো বলেন পত্রিকার ছাপা আগের চেয়ে অনেক ভাল এবং গ্রাম গঞ্জের খবর এখন আগের চেয়ে অনেক বেশী থাকে। ৪ ছেলের গর্বিত পিতা ডাঃ পাল বলেন, আমি ইত্তেফাককে খুউব বেশী ভালবাসি। পত্রিকার বিভিন্ন দুযোর্েগর কথা শুনলে মন খারাপ হয়ে যায়। ইত্তেফাকের কথা বলতে বলতে এক সংগে বেশ কিছু রোগি এসে চেম্বারে প্রবেশ করলো। ইত্তেফাক পত্রিকার পাঠক হিসাবে সুবর্ণ জয়ন্তি অতিক্রম করায় দৈনিক ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নেই।
