চা বাগানের ‘নাচঘর’ গুলিতে আগের মত আর যাত্রাগানের আসর জমে উঠে না। শরত্-হেমন্ত্মের শিশিরসিক্ত রাতে শারদীয় দূর্গোত্সবকে উপলড়্গ করে হারমোনিয়াম-তবলা বা ‘ঢোল-মন্দিরার’ সাথে ঝাজ ‘কনেট’ এবং ‘এলথ্রোন’ ‘ক্লারিওনেট’ প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ আর যাত্রাপালার নায়ক নায়িকাদের বিভিন্ন মাত্রার সংলাপ এখন নাচঘরে ধ্বনিত হয়না। নাচঘর চা বাগানের ঐতিহ্যের একটি অংশ। শাব্দিক অর্থে নাচের জন্য নির্দ্দিষ্ট ঘর বোঝালেও নাচঘরকে কেন্দ্র করে চা শ্রমিকদের সামাজিক, ধর্মীয় সাংস্কৃতিক, সাংগঠনিক সবকিছুই আবর্তিত হয়ে থাকে। এ ঘরটি শ্রমিকদের একটি মিলনড়্গেত্রও বটে। গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে নাচঘরের ছায়ায় যেমন দেখা যায় ক্লান্ত্ম শ্রমিকদের বিশ্রাম নিতে, তেমনি পাঞ্চায়েতের বিচার সালিশ অথবা শ্রমিক সংগঠনের সভা সমাবেশ সবকিছুরই ঠিকানা এই নাচঘর। চা শ্রমিকদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বা সাংগঠনিক প্রয়োজনে সভা সমাবেশের জন্য নাচঘরের উন্মুক্ত মঞ্চ ব্যবহূত হলেও নাচঘরের সার্থক ব্যবহার হতো যাত্রাপালার অনুষ্ঠানে। আশ্বিন-কার্তিকে দূর্গাপুজার সময় থেকে চৈত্রের বাসন্ত্মী পূজা পর্যন্ত্ম মাস ছয়েক যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হতো চাবাগানের নাচঘরে। নাচঘরের মাঝামাঝি কিঞ্চিত উঁচু মঞ্চোর চারপাশে শ্রমিকরা মেঝেতে বসেই মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করতো যাত্রাপালা। ছোটবড় প্রতিটি চা বাগানেই রয়েছে নাচঘর এবং বাগানের আকার আয়তন অনুযায়ী নাচঘরও ছোটবড় হয়ে থাকে। যাত্রাগান উপভোগের জন্য বাগানের ‘সাহেব-মেমসাহেব’ (ব্যবস্থাপক বা তার পত্নী) এর জন্য নাচঘরে একপাশে চেয়ার সোফা সাজানো থাকতো। বাগানের বাবুদের (স্টাফ) জন্যও থাকতো বসার আয়োজন।
