সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনে এক ঘণ্টা সময় বাড়ল

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪২
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তি উপস্থাপন শেষ করতে আরো এক ঘণ্টা সময় দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সালাহউদ্দিন কাদেরের আইনজীবী এএইচএম আহসানুল হক হেনা ও ফখরুল ইসলাম। যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার জন্য আইনজীবীদের গতকাল দুপুর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তবে কয়েকটি অভিযোগের সাক্ষ্য-প্রমাণের বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন বাকি থাকায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার আইনজীবীরা বর্ধিত সময় চান। পরে ট্রাইবুু্যুনাল আজ বুধবার কার্যক্রম শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে আহসানুল হক হেনা বলেন, নূতন চন্দ্র সিংহ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি। প্রত্যেক সাক্ষীর জবানবন্দিতে বৈপরীত্য ও অসঙ্গতি রয়েছে। সাক্ষী প্রফুল্ল সিংহ তার জবানবন্দিতে বলেছেন, তাদের বাড়ির দোতলায় নয়টি কক্ষ ছিল। এর মধ্যে তার দুটি, ভাই সত্যরঞ্জনের দুটি, বিভূতির একটি ও গৌরাঙ্গের একটি কক্ষ ছিল। এছাড়া একটি ছিলো পড়ার, একটি পূজার ও একটি গেস্টরুম ছিল। সেখানে অপর সাক্ষী গোপাল চন্দ্র দাসের বক্তব্য অনুযায়ী ব্রজহরির কোনো ঘর ছিলো না। তিনি বলেন, নূতন চন্দ্রের ভাতিজা সাক্ষী গৌরাঙ্গ ট্রাইব্যুনালে বলেছেন, জবানবন্দিতে তিনি যাদের নাম বলেছেন তাদের মধ্যে শুধু সে এবং প্রফুল্ল সিংহ বেঁচে আছেন। তাহলে গোপাল চন্দ্র দাস এলো কোথা থেকে। এছাড়া সাক্ষী প্রফুল্ল সিংহ ও ড. আনিসুজ্জামান তাদের লেখা বইতে নূতন চন্দ্র সিংহের হত্যাকাণ্ডে সালাহউদ্দিন কাদেরের জড়িত থাকার বিষয়ে কিছু বলেননি। মধ্যাহ্ন বিরতির আগ পর্যন্ত শুধু তিন নম্বর অভিযোগের বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। এ সময় আসামিপক্ষ ও সালাহউদ্দিন কাদেরের অনুরোধে দুপুরের পর যুক্তি উপস্থাপনের সময় দেন ট্রাইব্যুনাল। দুপুরের পর ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম আসামিপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরার বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, জেরা করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা সাফাই সাক্ষীদের বক্তব্যে কোনো অসঙ্গতি বের করতে পারেনি। বরং রাষ্ট্রপক্ষ জেরাকালে সালাহউদ্দিন কাদেরকে প্রশ্ন করেছিল তিনি বেনামে ও বেআইনিভাবে ১৯৭৪ সালে দেশে এসেছিলেন। এ প্রশ্নের মাধ্যমে তারা স্বীকার করে নিয়েছেন ১৯৭৪ সালে সালাহউদ্দিন কাদের দেশে ফিরে আসেন। এ সময় তিনি সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে কয়েক জনের দেয়া হলফনামা পড়ে শোনান। পরে ৬ নম্বর অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণের বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করে আজ বুধবার এক ঘণ্টা সময় চান আহসানুল হক হেনা। এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, আর কোনো সময় দেয়া হবে না। প্রয়োজনে আসামিপক্ষ লিখিত যুক্তিতর্ক দিতে পারবে। তখন সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, দুই বছর আট মাস ধরে জেল খাটছি। আমি কি আধা দিন সময় চাইতে পারি না? অভিযোগের ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আধা দিন সময় দিন। এইটুকুই আমার অনুরোধ। তিনি ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে বলেন, এখানে আমার অহংবোধের (ইগো) কোন বিষয় নেই। এটা আমার জীবনের বিষয়। এছাড়া একজন অসুস্থ আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন। আপনাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে বুঝি কিন্তু একদিন দিলে কী ক্ষতি হবে? তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, আগামীকাল (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করতে হবে।